সিলেটে করোনা সচেতনতায় কাজ করছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন টিম

5

 

বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ব্র্যাক৷ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাসহ এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকার ১৩টি দেশে রয়েছে এর কার্যক্রম। এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় ১ লক্ষ কর্মী।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, ত্রাণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নসহ সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্র্যাক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে চলেছে। যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে ব্র্যাক কর্মীরা সদা সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

সারাবিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করা চলমান কোভিড-১৯ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও ব্র্যাক কর্মীরা ইতোমধ্যে সারাদেশে কাজ শুরু করেছে।

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সহযোগী হিসেবে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণ পৌঁছে দিয়েছেন ব্র্যাক কর্মীগণ। ব্র্যাকের ৫০ হাজারেরও বেশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী দেশের ৬১ জেলায় তৃণমূল মানুষের কাছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবার্তা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। ব্র্যাকের ৮,৫০০ কর্মী ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, যারা তৃণমূল পর্যায়ে ব্র্যাকের সচেতনতা অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, সিলেটেও মাঠপর্যায়ে কর্মী, প্যারাকাউন্সিলর, মাইগ্রেশন ফোরাম সদস্য এবং বিজনেস এডভাইজরি কমিটির সদস্যবৃন্দ কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে।

সিলেট অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে বিদেশফেরত প্রবাসীদের সংখ্যাও অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি। ইতোমধ্যে বিগত এক মাসে বিদেশফেরত অভিবাসীদের তালিকা সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত মাঠকর্মী ও প্যারাকাউন্সিলরগণ। অভিবাসীদের কোরেন্টাইনে থাকার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণসহ বসবাসরত জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতামূলক লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করে চলছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন টিম।

একইসঙ্গে নভেল করোনা ভাইরাস থেকে কীভাবে নিজেদের, পরিবার, সমাজ ও সর্বোপরী দেশকে মুক্ত রাখা যায় সে সম্পর্কেও জনসাধারণকে অবহিত করা হচ্ছে। নিয়মিত হাত ধোয়া, অধিক লোক সমাগম আছে এমন জায়গায় না যাওয়া, হাঁচি কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলার ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ ফেরত কেউ আসলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করার মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভাইরাস মোকাবেলায় সবাইকে উদ্বুদ্ধকরণও করা হচ্ছে। এমনকি করোনার লক্ষণ দেখা দিলে সরকারি হটলাইনে ফোন করার আহবান জানানো হয়েছে।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানার জন্য যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বর দেয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে কল করতে ৩৩৩ ও স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ডায়াল করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। করোনা প্রতিরোধের উপায় জানতে আইইডিসিআর-এ ১০৬৫৫ ও ০১৯৪৪৩৩৩২২২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া জনসাধারণের কাছে সরবরাহকৃত লিফলেটে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি ও উপসর্গভিত্তিক করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন কর্তৃক সকল ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।বিজ্ঞপ্তি

  •