চা-বাগানে মজুরিসহ ছুটির দাবিতে ৩১ নাগরিকের বিবৃতি

20

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশে দেশে মানু্ষরে জন জীবন হয়ে পড়েছে ভয়াবহ। এমন পরিস্থিতি এর আগে বিশ্ববাসী দেখেছে বলে সন্দিহান।
নয়া এই ভয়াবহ দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশে দেশে প্রধানত সামাজিক দূরত্ব এবং লকডাউনের মতন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে সকল জনগণের জন্য সমান সুযোগ, সুবিধা নিশ্চিত করে বিশেষ করে লকডাউনের সময়ে জনগণের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান ও দীর্ঘমেয়াদী ভর্তুকি প্রদানের ঘোষণাও রয়েছে। এরমধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দাবীদার আমাদের দেশও রয়েছে।
করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে গত ২৫শে মার্চ থেকে সারা দেশে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে চা বাগানে কোন প্রকার ছুটি দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় চা বাগানে মজুরি এবং রেশনসহ ছুটির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের ৩১ নাগরিক।
বিবৃতিতে তারা বলেন- ২৫শে মার্চ থেকে সারা দেশে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ছুটি পায়নি চা-শ্রমিকরা। দেশের লাখ লাখ চা-শ্রমিক অসহায় হয়ে পড়েছেন সরকারি বৈষম্য আচরণে। সরকারি প্রেস নোট তাঁদের নাম যেনো আধুনিক শ্রমদাসে পরিণত করেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতেও তাঁদের কাজ করাই যেনো নিয়তি। এর জন্যে তারা আলাদা সুযোগ সুবিধাও পাবেন না।
শুধুমাত্র বাগান মালিকদের খুশী রাখাতেই সরকার এ ধরণের একতরফা বিধি নিষেধ চালু রেখেছে উল্লেখ করে বিবৃতিদাতারা বলেন- ‘আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এদেশে সরকার মালিকদের জন্য কাজ করছে, অপরদিকে শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রের সকল সেক্টরে রয়ে গেছে কেবলই শুভষ্করের ফাঁকি। এখন পর্যন্তু বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে চা বাগানের শ্রমিকদের করোনার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হলেও, তাদের ছুটি বিষয়ক কোন ঘোষণা তারা দেন নি। তবুও শ্রমিকরা নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে নিজেদের উদ্যোগে অনেক বাগানে কর্মবিরতি দিয়েছিলেন। ‘
তারা বলেন- ‘গত ৩০শে মার্চ, ২০২০ সিলেট জেলা প্রশাসকদের সাথে মতামত বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, চা বাগানের শ্রমিকরা দূরত্ব মেনে কাজ করে, প্রকৃতির সাথে কাজ করে বলে তাদের করোনার ঝুঁকি নেই। তাই তিনি করোনার সময়ে চা বাগানে ছুটির দরকার নেই বলে ঘোষণা দেন। আমরা এসব কথা চা শ্রমিক ও দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রত্যাখান করে আসছি। আমরা মনে করি দেশে এমন পরিস্থিতিতে যেখানে সারা দেশ বিপর্যয় পরিস্থিতিতে রয়েছে সেখানে এসব কথা আজগুবি, ভ্রান্ত, মনগড়া ও অযৌক্তিক। এসব দায়িত্বহীন কথা-বার্তা সমাজে অস্থিরতা তৈরী করে। আমরা আশংকা করছি এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়াতে পারে।’
সবশেষে তারা বলেন- ‘চা শিল্প বাংলাদেশের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৭ লক্ষ চা শ্রমিক নামমাত্র মজুরির বিনিময়ে এই চা শিল্পকে একটি মহীরুহে পরিণত করেছে। অথচ তাদের ন্যুনতম নাগরিক সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে না। এই করোনার দিনেও এই শ্রমিকদের জীবন নিয়ে কেউ ভাবছে না। চা বাগানের শ্রমিকদের কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অন্য অনেকের চাইতে বেশি। আর তাই চা বাগানের শ্রমিকদেরকে বাঁচাতে এবং একজন নাগরিক হিসেবে তাদের সুবিধা এবং মর্যাদা প্রদানে আমরা সাধারণ নাগরিকরা দাবি জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে মজুরি এবং রেশনসহ চা বাগানগুলোতে ছুটির ঘোষণা করতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতারা হলেন-

১. মোহন রবিদাস
২. বাকি বিল্লাহ
৩. জাবেদ ভুঁইয়া
৪. মিতা নাহার
৫. মোশফেক আরা শিমুল
৬. সাজিবুল হক তুষার
৭. অপূর্ব সোহাগ
৮. পারভেজ হাসান সুমন
৯. ইমরান ইমন
১০. সুনীল শৈশব
১১. পুরবী তালুকদার
১২. বীথি হক
১৩. হৃদয় দাশ শুভ
১৪. স্বর্ণালী দাশ টুম্পা
১৫. লিংকন দাস রায়
১৬. রিতু রায়
১৭. মাসুদ রানা
১৮. কণা জাহান
১৯. রেজাউর রহমান
২০. ফিলা পতমী
২১. জাহাঙ্গীর জয়েস
২২. নুরুজ্জামান
২৩. তাসফিয়া তানজিম আহমেদ প্রমা
২৪. ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল
২৫. রায়হান আনছারী
২৬. মারজিয়া প্রভা
২৭. মৌমিতা পাল
২৮. জাফরুল হাসান
২৯. ফরিদা হাসান
৩০. এমরান উদ্দীন
৩১. জোহেব হাসান দীপ

  •