বিশ্বে মহামারি করোনা জয় করে বাড়ি ফিরেছেন আড়াই লাখ মানুষ

14

সবুজ সিলেট ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির এই একবিংশ শতাব্দীতেও করোনর মতো আরেকটি ভাইরাস এসে যে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে, তা হয়তো কল্পনা করেনি কেউই। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে উৎপত্তি হয়ে এ ভাইরাস এখন ত্রাস ছড়াচ্ছে দেশে দেশে। চীনের পর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিনই ঝরছে প্রাণ। সংক্রমণ ঠেকাতে তাই মরিয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ গোটা বিশ্ব। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে।তবে দেশে দেশে করোনা আক্রান্ত বহু বয়স্ক ব্যক্তি সেরেও উঠছেন প্রতিনিয়ত। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ কোভিড-১৯ জয় করে বাড়ি ফিরে গেছেন। যা আশার আলো দেখাচ্ছে চিকিৎসকদের।
বিশ্বে প্রতিদিনই যেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ, সেখানে ৯৩ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই বৃদ্ধ সুস্থ হয়ে ফিরছেন বাড়ি। চিকিৎসক ও সেবিকারা তাকে জানাচ্ছেন অভিবাদন। ১০১ বছর বয়সী এক নারীও স¤প্রতি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
একজন বলেন, আমার মাকে সুস্থ করে তোলার পেছনে ডাক্তার ও নার্সদের অবদান অপরিসীম। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মায়ের পক্ষ থেকে বলতে চাই- দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো বড় সংকটই যে জয় করা যায় তিনি তা করে দেখালেন।
ইতালিতেও ১০১ বছরের এক বৃদ্ধ সেরে উঠেছেন। ১৯১৯ সালে জন্ম নেয়া ওই ব্যক্তি জানান, মনের জোর থাকলে রোগ সহজে কাউকে কাবু করতে পারে না। এছাড়া ৭১ বছর বয়সী ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লসও করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন স¤প্রতি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইউরোপে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই ৬০ বছরের বেশি বয়সী। তবে এ সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাচ্ছেন বৃদ্ধরাও।
ভারতেও ৯৩ ও ৮৮ বছর বয়সী দম্পতি করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি গেছেন। দেশটিতে এমন নজির বেশ কয়েকটি। ইরানেও অনেক বয়স্ক সেরে উঠেছেন করোনা থেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা শুধু বয়স্কদের জন্যই প্রাণঘাতী এমনটা ভাবার কারণ নেই। কম বয়সীদের জন্যও রোগটি মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসাই পারে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ হাজার ১৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।মৃতদের অধিকাংশই ষাটোর্ধ্ব। আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৬ জন। মহামারি আকার ধারণ করা এই ভাইরাসটি বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।এই ভাইরাসে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ইতালিতে।

  •