ফেঞ্চুগঞ্জে ত্রাণের অপেক্ষায় অসহায়-কর্মহীন মানুষ

10

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি
করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের সাধারণ ছুটি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গণপরিবহণ বন্ধে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শ্রমজীবী মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজের সুযোগ না থাকায় খাবার সংকটে পড়েছেন উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষ। করোনায় সৃষ্ট অচলাবস্থার ২ সপ্তাহের বেশি পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ এসব মানুষ।

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, ত্রাণ এসেছিল তা সবই বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ত্রাণ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে। এজন্য তালিকাও করা আছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে ঘুরে অসহায়-কর্মহীন মানুষদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

উপজেলায় মাইজগাঁও রেলস্টেশন প্রতিদিন চানাচুর বিক্রি করে পরিবার চালাতেন খোরশেদ মিয়া। তিনি করোনার কারণে ১৮ দিন থেকে কর্মহীন। এখন ব্যবসাও নেই, ঘরে খাবারও নেই। সরকারি পক্ষ থেকেও এখনো তারা কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি।

খোরশেদ মিয়া বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার শবেবরাতের দিনে অনেক টাকার বেচাকেনা করতে পারতাম। এখন এই পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা করতে পারলাম না।

আরেক দিনমজুর রহিম মিয়া বলেন, এভাবে কোনদিন কাজ ছাড়া ছিলাম না। এমন এক সমস্যায় পড়েছি ঘরে খাবারও নেই, আবার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজ করতে পারছি না। সরকারি বেসরকারি কোন ত্রাণ পাইনি।

আর ভ্যান চালক সাজু মিয়া বলেন, সব কিছু বন্ধ থাকায় এখন গাড়ি চালাতে পারছি না। ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হলেও আমরা পাইনি। এখনো কেউ আমাদের টাকা-পয়সা চাল-ডাল কিছুই দেয়নি।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী বদরুদ্দোজা বলেন, আমার ইউনিয়নের মানুষ বেশিরভাগই অসচ্ছল হতদরিদ্র। এ পর্যন্ত ৭৪৫ পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। অথচ পুরো ইউনিয়নে ত্রাণ পাওয়ার উপযোগী আছেন প্রায় ৪-৫ হাজার পরিবার। ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে আবারও ত্রাণ সামগ্রী আসলে বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফারুক মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন আগে আমার ওয়ার্ডে ২৫ জন ব্যক্তিকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী আবারও আসলে বিতরণ করা হবে। তবে হতদরিদ্র মানুষের তুলনায় ত্রাণ সামগ্রী অতি সামান্য।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাখী আহমদ বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জে ৩৫ টন চাল এসেছে। এগুলো সব বিতরণ করা হয়েছে। এখন ওয়ার্ড পর্যায়ে তালিকা করা হয়েছে। আগামীতে সরকারি বরাদ্দ আসলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

  •