সিলেটে সেই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ১৬ জন নেগেটিভ

62


করোনাভাইরাস মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। যে কারণে চীনের উহান থেকে এটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। সিলেটেও একজন চিকিৎসক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। কিন্তু ছোঁয়াচে এ ভাইরাসে আক্রান্ত সিলেটের চিকিৎসকের আশপাশে থাকে ১৬ জনের কারো শরীরে ধরা পড়েনি করোনা। তাদের পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ।

গত রবিবার সিলেটের একজন চিকিৎসকের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে সিলেটে প্রথম। এরপর সিলেটে শুরু হয় হুলস্থুল। মানুষের মাঝে এক অজানা ভীতির সৃষ্টি হয়। না জানি কতজন আক্রান্ত আছেন সিলেটে। মানুষের মাঝে এ আতঙ্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক।

আক্রান্ত এই চিকিৎসক ১৬ জনের একটি তালিকা দেন করোনা পরীক্ষা করার জন্য। তার পরিবারের সদস্য, গাড়ী চালক, চেম্বারে কাজে নিয়োজিত লোক, একটি হাসপাতালে কর্মরতসহ মোট ১৬ জনের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে। এতে তাদের কারো শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি। গত বুধবার এ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এই ১৬ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েনি এতে অনেকেই নানা প্রশ্ন তুলেছেন। সন্দেহের চোখেও দেখছেন অনেকেই।
এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখা তুলে ধরেন।

ডাক্তার হিমাংশু লাল রায় বলেন, একজনের করোনা পজেটিভ হয়েছে, এরমানে এই নয় যে তার সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও করোনা পজেটিভ হবে। ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কোন ব্যক্তির শরীরে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে তাহলে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে গেলেও এই ভাইরাস অন্যজনের নাও হতে পারে। আক্রান্ত চিকিৎসক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মেনে চলেছেন। যার কারণে তার কাছ থেকে এই ১৬ জনের শরীরে করোনা না ছড়াতে পারে। এছাড়া হয়তো এই ১৬ জনের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ছিল বেশি।

তবে সতর্কতা হিসেবে তিনি বলেন, তাদের শরীরে এখন করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি, এর মানে নয় যে তারা আর আক্রান্ত হবেন না। ডাক্তার হিমাংশু জানিয়েছেন, এই রোগের উপসর্গ কিংবা পজেটিভ ফলাফল অনেক সময় সাথে সাথে দেখায় না। অনেকের ক্ষেত্রে ১২ দিন কিংবা ১৪ দিন পরে করোনা ধরা পড়ে। সুতরাং তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে আরো বেশি করে।

এছাড়া তিনি কোভিড-১৯ সম্পর্কে আরেকটি বিষয় বলেন, এক জনের যদি করোনা ধরা পড়ে, তার সাথে যদি আরো ১০০ জন লোক মিশেন সবার করোনা হয়ে যাবে তা এমন নয়। তিনি বলেন, এই রোগটি নতুন। আমরা চীনের বিভিন্ন বিষয় দেখে জেনেছি যে, এই ১০০ জনের মধ্যে ২০ জনের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ হয় বেশি। এবং যারা বিভিন্ন রোগে ভোগছেন তাদের শরীরে করোনা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

বাকি ৮০ জনের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে না, কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে বেশি। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকার কারণে, করোনা শরীরে প্রবেশ করলেও এক সময় শরীরের সাথে যুদ্ধ করে হেরে যায় এ ভাইরাস।

  •