নবীগঞ্জে ত্রাণ চুরির সংবাদ প্রকাশ করায় সবুজ সিলেট প্রতিনিধিসহ ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলায় তোলপাড় : রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলের নিন্দা

196

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
ত্রাণ চুরির সংবাদ প্রকাশ করার অপরাধে নবীগঞ্জ উপজেলায় এবার ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাড়াটিয়া হিসাবে মামলা দায়ের করেছে সেই বিতর্কিত নারী ফরজুন আক্তার মনি। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) নবীগঞ্জ থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক নির্যাতনকারী নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুনের মালিকানাধীন অরবিট হসপিটাল দেখানো হয়েছে ঘটনাস্থল।
গত ৩০ মার্চ সরকারী ত্রান বিতরণে অনিয়ম করেন চেয়ারম্যান হারুন। ১০ কেজির পরিবর্তে তিনি পাঁচ কেজি করে এবং সাথে একটি তিব্বত বল সাবান দেন। পেয়াজ ডাল কিছুই দেননি। বিষয়টি ফেসবুকের লাইভে দেখান সাংবাদিক সুলতান ও বুলবুল। তাদের সেই অপরাধে চেয়ারম্যান নিজ হাতে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটান। তাদের রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন সাংবাদিক মুজিব। এই ঘটনার জন্য নবীগঞ্জ থানায় মামলা হলে পুলিশ চেয়ারম্যানের সহযোগী খালেদকে গ্রেপ্তার করে। এতে ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান কিভাবে সাংবাদিকদের শায়েস্থা করা যায়। তাই সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৫ পাঁচ সাংবাদিক চেয়ারম্যানের সাজানো মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার আসামী।
সাংবাদিকদের ভাষ্য :
এই মামলায় অনেকটা স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় ঘটনার মাস্টার প্লানকারী কারা। এদিকে ফের অভিযোগ উঠেছে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ৩মাস কারাভোগ করে জামিনে এসে নানা অপকর্ম শুরু করেছে মনি নামের এই প্রতারক নারী। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সাংবাদিক মহলে।
কাদেরকে আসামি করা হলো?
স¤প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্যাতনের শিকার (চিকিৎসাধীন) দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহ সুলতান আহমেদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সবুজ সিলেট ও সমকালের প্রতিনিধি এম এ আহমদ আজাদ, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি এম মুজিবুর রহমান, চ্যানেল এস এর প্রতিনিধি বুলবুল আহমেদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিনিধি মো. আলমগীর মিয়া ও নিরীহ যুবক সাকির আহম কে।
জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ত্রাণে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করায় আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমেদ উপর অতর্কিত হামলা চালান। এসময় চেয়ারম্যান হারুন নিজেই ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পেটান সাংবাদিককে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন সাংবাদিক এম মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিক বুলবুল আহমেদ।
এ ঘটনায় সাংবাদিক এম মুজিবুর রহমান বাদি হয়ে পরের দিন ইউপি চেয়ারম্যান হারুনকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এক আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চেয়ারম্যান হারুন। এরপর থেকেই কিভাবে সাংবাদিকদের সায়েস্থা করা যায় এমন নিল নকশা তৈরী করেন চেয়ারম্যান হারুন ও তার বাহিনী। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান খুঁজে আনেন বহু অপকর্মের হুতা নারী প্রতারক ফরজুন আক্তার মনিকে। অসুস্থ শাহ সুলতান ওইদিন আউশকান্দি বাজারে অবস্থিত তার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তার মেয়েকে নিয়ে ঔষধ কিনতে নিচে নেমে ফার্মেসিতে যাওয়ার সময় দেখেন বহুরূপী মনি ও চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী তার পথরোদ্ধ করে। ওই মনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শাহ সুলতানকে নানান ভাবে অপদস্ত করে। কিন্তু ওই ঘটনাটিকে এখন সাজানো হয়েছে অন্যভাবে। বিতর্কিত নারী মনিকে দিয়ে সাংবাদিকদের উপর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা দায়ের করেন। মামলায় সাংবাদিকদের উপর যৌন হয়রানী, ও চুরির অভিযোগ তোলা হয়। মামলাটি গত ৬ এপ্রিল রাতে নবীগঞ্জ থানায় রেকর্ড হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা।
দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে জামিনে আসা কে এই মনি ?
বহু রূপের অধিকারী মনি বিশেষ করে নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আত্মীয় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের মেয়ে আবার অনেককে ভাতিজি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতো। নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানীকর মিথ্যা স্ট্যাটাস এবং বিভিন্ন ভূয়া একাউন্ট খোলে প্রতারণা করে আসছিল।
অভিযোগ উঠে- প্রতি রাতেই নারীদের বিভিন্ন অশালীন ম্যাসেজ দিতো মনি। তার টার্গেট ছিল- নারী জন প্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা ও স্কুল-কলেজের ছাত্রী। এদেরকে ম্যাসেজ দিয়ে বø্যাক-মেইল করতো। এসব ম্যাসেজের স্ক্রীণশর্ট প্রকাশ হওয়ায় মনি নারী না পুরুষ এনিয়েও প্রশ্ন উঠে। প্রতারক মনির এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই মনি তার ফেইসবুক আইডিতে বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকিমূলক ও মানহানীকর স্ট্যাটাস পোস্ট দিয়ে অপদস্ত করতো। ওই নারী দীর্ঘদিন যাবত নিজেকে সাংবাদিক ও মানবাধীকার কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।
এমনকি তার অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক এম এ আহমদ আজাদ ও এম মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ও আদালতে মামলা দায়ের করে। সেই মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে কোন সত্যতা না পেয়ে মনির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এর পর প্রায় ৬-৭ মাস পূর্বে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি এম এ আহমদ আজাদ ও সাংবাদিক এম মুজিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে তার ফেইসবুক আইডিতে একাধিক মানহানীকর স্ট্যাটাস দিলে সংবাদিক আজাদ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ :
প্রতারক ফরজুন আক্তার মনি পুরুষ সেজে নবীগঞ্জের উপজেলার নারী জনপ্রতিনিধি ও সাবেক মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন নারী ইউপি সদস্যসহ আরও অনেককে অশ্লীল ম্যাসেজ পাঠিয়ে যৌন হয়রানি করে আসছিল। সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনেকের সাথে সংখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে তাদেরকে যৌন হয়রানী করতো। বিশেষ করে প্রবাসীদের বিভিন্ন ম্যাসেজ দিয়ে নানান উপহার সামগ্রী হাতিয়ে নিতো। অনেকেই জানান- ফরজুন আক্তার মনি বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করতো এবং এমন কী ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছিল। দাদন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকারও তথ্য রয়েছে। এর ফলে অল্প সময়ে সে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায়। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে পুলিশ শহরতলীর জে.কে উচ্চ বিদ্যালয় পয়েন্ট থেকে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোচিত নারী মনিকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি এনআইডি কার্ড, বেশ কিছু ভূয়া আইডি কার্ড, ৩টি মোবাইল ফোন, ১০ টি সিম কার্ড, একটি কলম ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও তার মোবাইলে লগইন করা একাধীক ভূয়া ফেসবুক আইডি এবং শতাধিক পর্নো ভিডিও উদ্ধার করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সমীরণ দাশ।
নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন আমরা ঐ নারী নির্যাকন মামলায় মামলায় কোন সাংবাদিককে হয়রানি করেনি।
সাংবাদিকদের ভাষ্য :
এই মামলায় অনেকটা স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় ঘটনার মাস্টার প্লানকারী কারা। এদিকে ফের অভিযোগ উঠেছে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে এসে নানা অপকর্ম শুরু করেছে মনি নামের এই প্রতারক নারী। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সাংবাদিক মহলে। মামলার আসামী সাংবাদিকরা হলেন- সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্যাতনের শিকার (চিকিৎসাধীন) দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহ সুলতান আহমেদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি এম এ আহমদ আজাদ, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি এম মুজিবুর রহমান, চ্যানেল এস এর প্রতিনিধি বুলবুল আহমেদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর মিয়া। ৫জন সাংবাদিক ছাড়াও সাকির আহমেদ নামের স্থানীয় এক যুবককে আসামী করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ত্রাণে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করায় আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমেদ উপর অতর্কিত হামলা চালান। এসময় চেয়ারম্যান হারুন নিজেই ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পেটান সাংবাদিককে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন সাংবাদিক এম মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিক বুলবুল আহমেদ। এ ঘটনায় সাংবাদিক এম মুজিবুর রহমান বাদি হয়ে পরের দিন ইউপি চেয়ারম্যান হারুনকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এক আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চেয়ারম্যান হারুন। এরপর থেকেই কিভাবে সাংবাদিকদের সায়েস্থা করা যায় এমন নিল নকশা তৈরী করেন চেয়ারম্যান হারুন ও তার বাহিনী। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান খুঁজে আনেন বহু অপকর্মের হুতা নারী প্রতারক ফরজুন আক্তার মনিকে। অসুস্থ শাহ সুলতান ওইদিন আউশকান্দি বাজারে অবস্থিত তার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তার মেয়েকে নিয়ে ঔষধ কিনতে নিচে নেমে ফার্মেসিতে যাওয়ার সময় দেখেন বহুরূপী মনি ও চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী তার পথরোদ্ধ করে। ওই মনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শাহ সুলতানকে নানান ভাবে অপদস্ত করে। কিন্তু ওই ঘটনাটিকে এখন সাজানো হয়েছে অন্যভাবে। বিতর্কিত নারী মনিকে দিয়ে সাংবাদিকদের উপর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা দায়ের করেন। মামলায় সাংবাদিকদের উপর যৌন হয়রানী, ও চুরির অভিযোগ তোলা হয়। মামলাটি গত ৬ এপ্রিল রাতে নবীগঞ্জ থানায় রেকর্ড হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান।

মনিকে গ্রেফতারের পর আইন শৃংখলা কমিটিতে কি সিন্ধান্ত হয় :
গ্রেফতারের পর নবীগঞ্জ উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী মোঃ শাহনওয়াজ মিলাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম এর উপস্থিতিতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বহুরূপী ফারজানা আক্তার ফরজুন ওরফে মনির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উপস্থাপন করলে, মনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সর্ব সম্মতিতে সিন্ধান্ত গৃহিত হয় এবং প্রতারক মনি কর্তৃক নবীগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকের মাধ্যমে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য নিন্দা প্রস্তাব গৃহিত হয়। ওই সময় এক জনপ্রতিনিধি প্রশ্ন তুলেন মনি নারী না পুরুষ? এরপর তার লিঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। বিতর্কিত এই মনি নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউপির কায়স্থগ্রামের জহুর উদ্দিনের মেয়ে।
প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ :
নবীগঞ্জে ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রচার করায় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার রেশ কাটার আগেই এবার ৫ সাংবাদিকের উপর দায়ের করা হয়েছে ষড়যন্ত্রমুলক মামলা। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে সাংবাদিক মহলে। নারী নির্যাতন, অপহরণের চেষ্টা ও চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দায়ের করা মামলার বাদীর নাম ফয়জুন আক্তার মনি। তিনি ইতিপূর্বের বিভিন্ন কর্মকান্ডে বির্তকিত। এমনকি ৬ মাস পূর্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রায় ৩ মাস কারাভোগ করে জামিনে আছেন। তার মামলার ৬ আসামীর মধ্যে ৫ জনই শীর্ষ স্থানীয় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত। নবীগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের অভিযোগ- সম্প্রতি ৩ সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ করায় এবার ৫ সাংবাদিকের উপর ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা দুটির খল নায়কের ভ‚মিকায় রয়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন।
নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সাংবাদিক মহলে। এ মামলা দায়ের ঘটনায় তাৎক্ষনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অনলাইন সভায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সরওয়ার শিকদার, সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সাবেক সভাপতি ফখরুল আহসান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিঠু, সাবেক সভাপতি সাইফুল জাহান চৌধুরী, আলাউর রহমান ঠাকুর, এটিএম সালাম, বর্তমান সহসভাপতি আশাহীদ আলী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কিবরিয়া চৌধুরীর, কোষাধক্ষ্য আকিকুর রহমান সেলিম, নিবার্হী সদস্য অলিউর রহমান অলি, সদস্য রাকিল হোসেন, উত্তম কুমার পাল হিমেল, আবু তালেব, মো. সেলিম তালকুদার, সলিল বরণ দাশ, এটিএম জাকিরুল ইসলাম, এম এ মুহিত, মতিউর রহমান মুন্না, ছনি চৌধুরী, হাবিবুর রহমান চৌধুরী শামীম, তৌহিদ চৌধুরী, মোহাম্মদ শওকত আলী, মোজাইদ আলম চৌধুরী, নুরুজ্জামান ফারুকী, নাবেদ মিয়া প্রমুখ।
রাজনৈতিহ মহলের নিন্দ : সাংবাদিকদের উপর মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যডভোকেট আবু জাহিদ এমপি, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকে আলমগীর হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ ১ আসনের এমপি গাজী মো. শাহ নেওয়াজ মিলাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর জাহান চৌধুরী, উপজেলা আওমীলীগের সাংগঠনক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ মিলু, হবিগঞ্জ ১ আসনের সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহসাচিব এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু।

  •