নগরীতে সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে বিনামূল্যে সবজি বিতরণ

23

স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটের দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে সবজি বিতরণ করেছেন সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে সামনে বিনামূল্যে এ সবজি বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংস্কৃতিকর্মীরা।

জানা যায়, সিলেটের সংস্কৃতি কর্মীরা ‘করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধের জনযুদ্ধে ভালোবাসা-বন্ধুতা’ এমন ব্যানার টানিয়ে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বিভিন্ন ধরণের সবজি রাখা হয়েছে। লোকজন এসে পছন্দমত এখান থেকে সবজি নিয়ে যাচ্ছেন।

এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত সংস্কৃতিকর্মী হুমায়ুন কবির জুয়েল জানান, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মানুষের মাঝে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এই খাদ্য সংকট দূর করতে আমরা বিনামূল্যে এ সবজি বিতরণের উদ্যোগ নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য বিতরণ করা হয়। জনপ্রতি খাদ্য বিতরণের তালিকায় ছিলো একটি লাউ, একটি বাঁধাকপি, এক কেজি বেগুন, দুইটি লেবু।’

তিনি আরও বলেন, ‘আনুমানিক ২৫০-৩০০ জন মানুষকে আমরা আজ সবজি বিতরণ করতে পেরেছি। সকল শ্রেণির মানুষ এখান থেকে সবজি নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতেও এ উদ্যোগ তারা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ জন রোগীর দেহে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮২ জনে। নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখন ৩০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া সুস্থ হয়ে ফিরেছেন আরও তিনজন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা দেয় আইইডিসিআর। ১৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারী ঠেকাতে ঘরে থাকার মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনায় সন্ধ্যা ৬টার পর বাইরে বের হতেও নিষেধ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব অফিস আদালত বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এরপর এটা বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। পরে তৃতীয় দফায় সেই ছুটি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ছাড়িয়েছে। শনিবার পর্যন্ত এক লাখ ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসা নিয়ে নিয়মিত জীবনে ফিরে গেছেন প্রায় তিন লাখ ৭৭ হাজার।

  •