কাঁদছে ‘জালালি কইতর’

31

সবুজ সিলেট ডেস্ক
‘ঝাঁকে উড়ে আকাশ জুড়ে/ দেখতে কী সুন্দর / জালালি কইতর / জালালের জালালি কইতর…।’ গানটির সুর এখন আর ‘কইতরদের’ (কবতুর) ডানা ঝাপটানোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরঙ্গ তুলে না সিলেট শাহজালাল (রাহ.) দরগাহ মাজারের আকাশে-বাতাসে। ১৯৮৮ সালে শাহজালাল (রাহ.) বন্ধনায় রচিত সিলেটের আম্বরখানা বড়বাজার এলাকার আবদুল হামিদ জালালির এই বাউল গান আর দরগাহের ‘জালালি কইতরগুলো’র নিরব কান্না যেন আজ গুমড়ে ফিরছে জনশূন্য মাজার এলাকাজুড়ে।

দেশে করোনার সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ। করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ দেশের কয়েকটি জেলা লকডাউনও হয়ে গেছে। ঘুরে বেড়ানো তো দূরের কথা- একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষ। এছাড়াও গত ১৮ মার্চ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলেটে সকল পর্যায়ের পর্যটক আগমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এই অবস্থায় প্রতিদিন শত শত ভক্ত ও দর্শনার্থীর পদভারে মুখরিত সিলেট শাহজালাল মাজার এলাকায় গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা। বর্তমানে শাহজালাল মাজার প্রাঙ্গণে ‘জালালি কইতরগুলোর’ (কবুতর) ডানা ঝাপটানোর করুণ শব্দ ছাড়া আর কিছুই নেই। নেই ভক্তদের গানের সুরের মূর্ছনা, নেই দর্শনার্থীদের সেল্ফিবাজি, নেই ছবি তোলার হিড়িক। নেই মোমবাতি-আগরবাতির জ্বালিয়ে ‘পূণ্য হাসিলের’ প্রতিযোগিতা, নেই দান বাক্সে বা শাহজালালের সঙ্গে আসা ‘বড় ডেগ’-এ (পাত্রে) টাকা দানের ধুম।

এদিকে, পবিত্র শবে বরাতে জনসমাগম এড়াতে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (৯ ও ১০ এপ্রিল) শাহজালাল (র.) এর দরগাহ ছিলো পুরোপুরি বন্ধ। গেইট ছিলো তালাবদ্ধ। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞায় এই দু’দিন কেউই দরগাহ এলাকায় প্রবেশ বা জিয়ারত করতে পারেননি। দরগাহ মসজিদে বাইরের কেউ নামাজও আদায় করতে পারেননি। শুক্রবার জুমার নামাজের সময়ও বাইরের মুসল্লিরা দরগাহ মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেননি। ১১ এপ্রিল (শনিবার) সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলেও লোকজনের আনাগোনা নেই দরগাহ মাজারে।

শাহজালাল (রাহ.) দরগাহ মাজারের খাদেম মুফতি মোহাম্মদ কয়েস বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে শাহজালাল মাজারে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের সমাগম বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতি শবে বরাতের রাতে শাহজালাল (র.) লাখো মানুষ জিয়ারতে আসেন। কিন্তু এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে এভাবে লোকজন জড়ো হওয়া খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো তাই আমরা মাজার বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই দু’দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিলাম। শনিবার মাজার খুলে দিলেও কেউ আসছেন না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে খাদিম কয়েস বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় মাজারের দানবাক্সে ৪০-৫০ হাজার টাকা জমা হতো। আর ডেগে (বড় পাত্রে) প্রতিদিন হাজার-দেড় হাজার টাকাও জমা হতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এমনটি আর হচ্ছে না।

  •