ছাতকেই হবে ডা. মঈনে উদ্দীনের দাফন

65

স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা যাওয়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীনকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় দাফন করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাতক থানার ওসি মো, মোস্তফা কামাল।

তিনি বিকেল পাচঁটার দিকে বলেন, তার গ্রামের বাড়িতে দাফনের সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ডা. মঈনের মরদেহ রাস্তায় রয়েছে। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি সিলেটে করোনা যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা ছিলেন।

ডা. মঈন উদ্দিন ছিলেন সিলেটের একজন মেধাবী চিকিৎসক। তিনি মেডিসিনের পাশাপাশি কার্ডিওলজিরও চিকিৎসক ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৯৯৮ সালে তিনি এফসিপিএস’র পাশাপাশি কার্ডিওলজিতে এমডি করেন।

ডা. মঈন উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে। নাদাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ধারণ নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে এসএসসি এবং সিলেটের এমসি কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেলে। সেখান থেকে কৃতীত্বের সঙ্গে এমবিবিএস পাসের পর তিনি এফসিপিএস ও এমডি কোর্স সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন।

স্বাস্থ্য ক্যাডারে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৪ সালের ২০ মে তিনি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ কলেজে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যুকালে তিনি দুই অবুঝ ছেলে ও স্ত্রী পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. ইফ্ফাত জাহান এবং তিন বোন রেখে গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তার বড় দুই ভাই মারা গেছেন। ভাইদের মধ্যে তিনি একমাত্র বেঁচে ছিলেন। তার তিন বোনের সবাই শিক্ষক। ডা. মঈনের শ্বশুর ডা. নুর আহমদ ও শাশুড়িও চিকিৎসক। তার বাবা মরহুম মুন্সি সিকদার আলী একজন আলেম ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল সিলেটে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) প্রথম আক্রান্ত রোগী হিসেবে এই চিকিৎসককে সনাক্ত করা হয়। সেদিন রাতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর বরাত দিয়ে ওই রোগীর কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়ার তথ্য জানান সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল।

তখন তিনি জানান, আক্রান্ত চিকিৎসক বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার তার রক্তের নমুনা ঢাকায় প্রেরণ করলে রোববার বিকেলে রিপোর্ট পজিটিভ আসার কথা জানানো হয়। তবে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলেও সে সময় জানান সিভিল সার্জন। তখন থেকেই তিনি বাসায় সেলফ আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ডা. মঈন উদ্দিন সিলেটে কর্মরত অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন সিলেটের সিভিল সার্জন।

পরে ৭ এপ্রিল রাতে তার শারীরিক অবস্থায় অবনতি হলে আশঙ্কাজনক বাসা থেকে ওই চিকিৎসককে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নেয়া হয়। প্রথমে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হলেও পরে সাড়ে ১১টার দিকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হয়।

তবে পরদিন ৮ এপ্রিল সকাল থেকে তিনি একটু ভালো ছিলেন বলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানালেও পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় এই চিকিৎসককে। সেদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয় তাকে। সেখানেই ৭দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকাল পৌনে সাতটায় তিনি মারা যান।

  •