ঘরেই তারাবি পড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

22

মসজিদে আপাতত জামাতে নামাজ না পড়ার বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলোও মেনে চলতে বলেছেন তিনি।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ঢাকা বিভাগের, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে সরকারপ্রধানের এ আহ্বান আসে।

তিনি বলেন, “সামনে রোজা। এই রমজান মাসে আমাদের পণ্য পরিবহন বা খাদ্য সামগ্রীর যাতে অসুবিধা না হয়, সেজন্য আমরা যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু সেই সাথে সাথে এখানে তারাবির নামাজ, যেহেতু সৌদি আরবেও মসজিদে পড়ছে না, কিংবা অন্যান্য দেশে হচ্ছে না। আমাদের এখানেও, যেহেতু ইসলামিক ফাউন্ডেশন কতগুলো নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো আপনারা মেনে ঘরে বসে তারাবি পড়েন। নিজের মন মত করে পড়েন।”

নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ অতি সংক্রামক বলে বিশ্বজুড়ে এখন সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জন সমাগম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও অন্তত তিন ফুট দূরত্ব থেকে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়ের জমায়েত থেকে বড় আকারে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটছে দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও ভারতে। দেশে দেশে লকডাউনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের পাশাপাশি জনসমাগমের অন্যতম জায়গা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশেও সাধারণ নাগরিকদের মসজিদসহ কোনো ধরনের ধর্মীয় উপাসনালয়ে না গিয়ে বাসায় থেকে নামাজ ও প্রার্থনা সারতে বলেছে সরকার। এ আদেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেওয়া ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখেছেন, যে সৌদি আরবে, সেখানে পর্যন্ত মসজিদে নামাজ বা জমায়েত হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি তারাবি নামাজ পর্যন্ত সেখানে হবে না। সবাই ঘরে বসে পড়বে। খুব সীমিত আকারে কিন্তু সেখানে তারা করছেন, তারা নিষেধ করে দিয়েছেন।

“ঠিক এভাবে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, এমকি ভ্যাটিকান সিটি থেকে শুরু করে সব জায়গায় কিন্তু এইভাবে তারা সুরক্ষা করার ব্যবস্থা নিয়েছে। নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখা, অন্যদেরকে সুরক্ষিত করা।”

এ বিষয়গুলো থেকে বাংলাদেশেরও শেখার আছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “মসজিদে না গিয়ে নিজের ঘরে বসে নামাজ পড়া, কারণ আল্লাহর ইবাদত, ইবাদততো আপনি যে কোনো জায়গায় বসে করতে পারেন। এটাতো আল্লাহর কাছে সরাসরি আপনি করবেন। বরং এখন ইবাদত করার একটা ভালো সুযোগ আসছে।

“আল্লাহকে ডাকতে হবে, ইবাদত করতে হবে। আপনি আপনার মত করে যত ডাকতে পারবেন, আল্লাহ সেটাই কবুল করবে। কাজেই সেভাবে আপনারা করবেন। অযথা মসজিদে গিয়ে অন্য কেউ সংক্রমিত থাকল, সে আরেকজনকে সংক্রমিত করল, বা আপনার নিজের হলে অন্যকে করবেন… সেটা কিন্তু করবেন না দয়া করে। এ বিষয়টা সকলেই আপনারা মেনে চলবেন, সেটাই আমরা চাই।”

ভারতে তাবলিগ জামাতের সমাবেশ থেকে ব্যাপক হারে সংক্রমণ ঘটার বিষয়ে ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু এই অঞ্চলে এরকম কিছু দেখা গেছে, সেক্ষেত্রে আমি বলব যে সবাইকে আরও সচেতন থাকতে হবে। কিন্তু জীবন চালানেরার জন্য অবশ্যই কাজ করতে হবে। বসে থাকলে চলবে না।

“আপনারা সেইভাবে নিজেদের সুরক্ষিত করে যেভাবে যা কাজ করার করবেন। সেই সাথে সাথে আমি বারবার অনুরোধ করব, নিজেকে সুরক্ষিত রাখেন।”

  •