মিরবক্সটুলায় সংঘর্ষ, অস্ত্রসহ দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

139

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলাস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় কেই হতাহত না হলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তলসহ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে মীরবক্সটুলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটককৃতরা হল, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক অদিত ইসলাম সালমান ও ছাত্রলীগ নেতা রেদওয়ান।

সংঘর্ষের বিষয়ে স্থানীয় জিয়াউল ইসলাম নামের এক যুবক বলেন, আমি দুপুরে খেতে বসি, তখন অপরিচিত এক নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে ফোন আসে। ফোনে অদিত আমাকে হুমকি দিয়ে বলে আমি ১০ টা মামলার আসামি দরকার হলে আরও একটা বাড়বে। এরপর সে দা ও পিস্তল নিয়ে আমারা বাসায় গেইটে দাড়িয়ে ছিল। এরপর এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে। তার সাথে আগে পরিচয় নেই জানিয়ে তিনি বলেন, কেন আমার মোবাইলে ফোন দিল তাও আমি জানি না।

এসময় ঘটনাস্থলে থাকা এক বৃদ্ধ বলেন, সালমানে আরো বহু মানুষের বাসায় হামলা দিয়েছে আপনারা খোঁজ-খবর নেন। তার ডিউটিই হইলো এইটা। সে থাকে বটেশ্বর আর আওয়ামী লীগে বিক্রি করে খায়।

আর যে বাসায় প্রথম হামলা হয়েছে সেই বাসার একজন বলেন, আমি বাসায় ছিলাম, তখন আমার ভাতিজাকে ফোনে হুমকি দেয়। এরপরই আমার বাসায় এসে দা দিয়ে হামলা করে। এসব পিস্তল বের করলে আমি এগিয়ে গিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেই।

তবে আটক সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক অদিত ইসলাম সালমান বলেন, আমাদের এলাকার কয়েক বলেছেন আমাদের এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী রাখা হবে না। এ নিয়ে তারা সিলেটে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও মেয়র বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন। এনিয়ে আমি দ্বিমত পোষণ করে ফেসবুকে পোস্ট করি।

আমাদের বক্তব্যে হলো, দেশের এই ক্রাইসিস মোমেন্টে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও এলাকাবাসীর কোন সমস্যা নেই। এতে এলাকার কিছু মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা করেন। তারা প্রথমে আমার গাড়ি আটকিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন। এরপর আমার পরিচিত কয়েকজন ছিল কিন্তু পুলিশ আসার পর এলাকাবাসী পিস্তল ও একটি দা এনে তাদের হাতে দেয়।

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. সেলিম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নিয়ে ফেসবুকে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় কিছু যুবক। এ বিবাদের জেরে খাদিমপাড়া থেকে দুই যুবক নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় আসেন। যাদের সাথে ফেসবুকে বিবাদ হয়েছে, তাদেরকে খোঁজতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে আটক করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, ১৫ এপ্রিল (বুধবার) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত মিরবক্সটুলায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হসপিটালে করোনা রোগী না রাখার জন্য সিভিল সার্জন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসীর পক্ষে নয়াসড়ক জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী আব্দুল মালিক রাজা, আজাদী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. আব্দুল কাহির ও ব্যবসায়ী মিলাদ আহমদ। এটি পৃথক পৃথকভাবে সিটি মেয়র ও হসপিটাল পরিচালক বরাবরেও ৮৬ জন এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

  •