সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৪ জনের

19

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
বৈশাখের শুরুতেই সিলেট বিভাগে দেখা দিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। সেই সাথে শিলাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড বজ্রপাত। আর এ বজ্রপাতে হঠাৎ করে বেড়েছে মৃত্যু। সর্বশেষ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে বজ্রপাতে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মিলে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে বজ্রপাতে ৩ টি গরু মারা গেছে।

ফলে সুনামগঞ্জ জেলায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। করোনা আতঙ্কের সাথে বর্তমান মৌসুমি আতঙ্ক বিরাজ করছে জেলার কৃষকদের মনে। ফলে ধান পাকলেও একদিকে করোনা আতঙ্কে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে অন্যদিকে কৃষকরা বজ্রপাতের কারণে নিজেও যেতে পারছেন না ধান কাটতে।

শাল্লায় কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু :

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী শনিবার সকালে এক দিনের বজ্রপাতে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদের সুনামগঞ্জ জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুর রহমান। তার পাঠানো তথ্যমতে বজ্রপাতে নিহত তরুণের নাম শঙ্কর সরকার (২২)।

সকাল সাড়ে ১০ টায় তার নিজ বাড়ি থেকে শাষখাই বাজারে যাবার পথে ওই তরুণ মারা যান। সে উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানায়, শঙ্কর নারায়ণপুর বাড়ি থেকে শাষখাই বাজারে যাবার পথে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহত তরুণ একজন কৃষি শ্রমিক।

নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম।

জগন্নাথপুরে ১ জনের মৃত্যু :

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরে গরু চড়াতে গিয়ে শিপন (৩২) নামের এক রাখাল বজ্রপাতে মারা গেছেন। দুপুর ১২টার দিকে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

শিপন জগন্নাথপুর উপজেলার বাউধরণ গ্রামের বাসিন্দা। কাছাকাছি ঐ হাওরে কৃষক নূরুল হকের একটি গরু মারা যায়।

কেশবশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদ মিয়া বলেন, নলুয়ার হাওরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যাওয়ার পর এক রাখাল বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। এরই কাছাকাছি সময়ে এক কৃষকের একটি গরু মারা গেছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেছেন জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু :

এদিকে সকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরে গরু নিয়ে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে ফরিদ মিয়া (৩৫) নামের একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এসময় তার দুইটি গরুও মারা যায় বলে জানিয়েছেন আমাদের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। তার পাঠানো তথ্যমতে নিহত ফরিদ মিয়া উপজেলার পাথারিয়া ইউপির উত্তর গাজীনগর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে গাজীর খাল নামক হাওরে ২ টি গরু নিয়ে যান ফরিদ মিয়া। এসময় ঝড়ের সাথে বজ্রপাত শুরু হলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ২ টি গরু সহ ফরিদ উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

দিরাইয়ে একজনের মৃত্যু :

অপরদিকে দিরাই উপজেলার উদগল হাওরের চিনাউড়া নামক স্থানে তাপস মিয়া (৩৫) নামে ধানকাটার এক শ্রমিক বজ্রপাতের কবলে পরে মারা যান বলে জানিয়েছেন আমাদের দিরাই প্রতিনিধি। তিনি জানান তাপস মিয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের মফিজ উল্লার পুত্র।

সংশ্লিষ্ট সরমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরীর বরাত দিয়ে আমাদের এ প্রতিনিধি জানান, আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জলসূখা গ্রামের নিহত তাপসসহ কয়েকজন শ্রমিক সরমঙ্গল গ্রামের ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন ও কতুব উদ্দিনের বোরো ধান কাটার জন্য এসেছেন। আজ সকালে তারা ধান কাটার জন্য হাওরে যায়। ১০ টার দিকে বৃষ্টি নামলে দৌড়ে সরমঙ্গল গ্রামে ফেরার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়ে সে মারা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সফি উল্লাহ।

  •