আমেরিকায় করোনা ভাইরাসে এক সপ্তাহে মৃত্যু দ্বিগুণ আক্রান্ত বাড়েনি, সুস্থতা বেড়েছে

34

এমদাদ চৌধুরী দীপু, নিউইয়র্ক
এক সপ্তাহে আমেরিকায় সনাক্ত হওয়া রোগী বেড়েছে ২লাখ, গত সপ্তাহে একই হার ছিল। আর মৃত্যু বেড়েছে ১৮হাজার এর উপরে এটি আগের সপ্তাহের চেয়ে দ্বিগুনের উপরে। সুস্থতা হয়েছে দ্বিগুন। তবে কাটেনি উদ্বেগ,আতংক একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড নিউইয়র্কে,২৪ঘন্টায় মারা গেছেন ১০২৫জন। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন ২৪ ঘন্টায় ২৫৭৪জন। এসব তথ্য ওয়ার্ল্ডোমেটারের।প্রতিঘন্টায় মারা যাচ্ছেন ৪২জন। নিউইয়র্কে এখন আক্রান্ত রোগী ২,৩৩,৯৫১এর উপরে,মোট মৃত্যু ১৭,১৩১জন,শুধু নিউইয়র্ক নয় করোনার চিত্র এখন উদ্বগজনক অবস্থায় যে সব অঙ্গরাজ্যে নিউজার্সী, সনাক্ত ৭৮ হাজারের উপরে, মৃত্যু ৩৮৪০ জন, মেসাজুসেট, সনাক্ত ৩৪হাজারের উপরে, মৃত্যু ১৪০৪ জন। মিশিগান সনাক্ত,৩০ হাজারের উপরে, মৃত্য ২২২৭ জন, ক্যালিফোর্নিয়ায় সনাক্ত, ২৯ হাজারের উপরে, মৃত্যু ১০৪১জন, পেনসেলভেনিয়া, সনাক্ত ২৯ হাজারের উপরে,মৃত্যু ৯৫৯জন, লুসিয়ানা,সনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজারের উপরে,মৃত্যু ১২১৩জন। ফ্লোরিডায় সনাক্ত ২৪ হাজারের উপরে মারা গেছেন ৭২৬জন।
গত ২৯ ফেব্রæয়ারী যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। প্রথমে একজন,পরে দুজন আর এখন ৭লাখের উপরে। পেশার দায় থেকে ২৩মার্চ থেকে বিভিন্ন রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত,মৃত্যু এবং আরোগ্য হওয়ার চিত্র তুলে ধরছি।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত খোজ খবর রাখছেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস,কথা হয় যুক্তরাষ্ট্র এবং নিউইয়র্ক এর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি মনে করেন আগে রাষ্ট্র বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও এখন সর্বোচ্চ গুররুত্ব দিচ্ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রনে আসবে এমনটি আশা করা যায়। শুরুতে রাষ্ট্র এবং নাগরিক এমনকি বাংলাদেশীরা এটিকে গুরুত্ব না দেয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে । বাংলাদেশী কমিউনিটির ভুমিকার প্রশংসা করে কায়েস বলেন এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশীর জানাজা ছাড়া দাফন হয়নি। বাংলাদেমী যারা মারা গেছেন,আক্রান্ত হয়েছেন,এবং কর্মহীন হয়েছেন এছাড়া যারা ব্যবসা হারিয়েছেন তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলে করেন এই সাংবাদিক নেতা।
এক মাস ১৭দিন পেরিয়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রুপ নিয়েছে। এখন আক্রান্ত লাখ লাখ শুধু এই খবর নয়, এপ্রিল মাস এর শেষে লক্ষপ্রানের মৃত্যুর খবর আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। হোয়াইটহাউস সেই বার্তা দিচ্ছে উত্তরআমেরিকার নাগরিককে। শুধু বার্তা নয় লক্ষাধিক মানুষকে কবর দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে গণকবর শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর মিছিল চলছে বাংলাশেীদের,এখানে প্রবাসীদের দিন শুরু হয় মৃত্যুর সংবাদ শুনে। আজ ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত রোগী ৭লাখ ৭ হাজারের উপরে,মৃত্যু ৩৬,৯২২ জন, গতশুক্রবারে এই সংখ্যা ছিল,১৮,৭২০জন। সুস্থ হয়েছেন ৫৯,১৫৮জন,গতশুক্রবারে এই সংখ্যা ছিল ২৭,২৩০জন। মৃত্যু এবং সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাদ দিলে এখন আমেরিকায় ৫০ রাজ্য সহ অন্যান্য বড় শহরে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী প্রায় ৬ লাখ ।
২৩ মার্চ আমেরিকায় আক্রান্ত ছিল ৪২হাজারের উপরে। গত ৩০ মার্চ সেটি দাড়ায় ১,লাখ ৬৪, হাজারের উপরে। গত ১০এপ্রিল সেটি দাড়ায় ৫লাখ ২ হাজার,তিন সপ্তাহেই বেড়েছে সাড়ে ৬ লাখ। প্রথমে ছিল সপ্তাহে একলাখ বৃদ্বি,পরে সেটি দাড়ায় সপ্তাহে ২লাখ বৃদ্বিতে , এই সপ্তাহে আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতা রয়েছে। আক্রান্তের হার একটু কমলেও তিন সপ্তাহে আমেরিকার করোনা চিত্র ভয়ংকর রুপ নিয়েছে মৃত্যু বিবেচনায়। আগামী সপ্তাহে আকস্মিক কিছু যদি না হয় ,কোন প্রতিষেধক কিংবা আবিস্কার যদি অবনতি আটকাতে না পারে তবে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানী হতে পারে আমেরিকায় এমন আশংকার কথা বার বার স্মরন করিয়ে দেয়া হচ্ছে।
বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রানহানীর কারনে লাশ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্বান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে লাশ পুড়ানোর খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে গণকবর শুরু হয়েছে।
মাত্র ৫১৭জনের মৃত্যু ছিল গতমাসের ২৩ তারিখ ২৩ মার্চ,সপ্তাহ শেষে সেটি দাড়ায় ৩১৬৫ জনে গত ৩০ মার্চ। গত ১০এপ্রিল মৃতের সংখ্যা দাগায় ১৮,৭২০ জন। আজ ১৭এপ্রিল এই সংখ্যা ৩৬হাজার ৯২২জন। তিন সপ্তাহে মৃত্যুই বেড়েছে ৩৬হাজার এর উপরে। এসবের বিপরীতে আরোগ্য আছে প্রায় ৫৯,১৫৮জন।
২৭টি রাজ্যে নেই আরোগ্য হওয়ার সুখবর। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্নœ সংখ্যায় সুস্থ হচ্ছেন এমন রাজ্য হচ্ছে ২৩টি। সামগ্রিক বিবেচনায় চরম নাজুক এক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি।
প্রায় দেড়মাস থেকে সৃস্ট করোনা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১৫৯ জন এর উপরে বাংলাদেশী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন মারা যাওয়ার খবর আসছে।এদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক,কমিউিনিটি নেতা,রাজনৈতিক নেতা সহ নানা শ্রেনী ও পেশার মানুষ। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে ইমিগ্রেশনের সব কর্মকান্ড।
৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে যে সব অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু এবং আক্রান্ত রোগী বেশী সে তালিকায় রয়েছে, নিউইয়র্ক, নিউজার্সী, ওয়াশিংটন, কেলিফোর্নিয়া, মেসাজুসেট, ইলিনইস, পেনসেলভেনিয়া, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, ফ্লোরিডা, লুসিয়ানা, জর্জিয়া, টেক্সাস, কানেকটিকা। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলো আক্রান্ত এবং মৃত্যু সবই উদ্বেগ এবং আতংক সৃস্টিকারী সকল দেশ,সকল মহল,সকল ধর্ম,বর্নের মানুষের জন্য।

  •