করোনা যাওয়ার পর বাহরাইনে লোক নেওয়ার সম্ভাবনা

10

সবুজ সিলেট ডেস্ক

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পরে বাহরাইনে নতুন করে বিদেশি শ্রমশক্তি নিয়োগ দেওয়া শুরু হবে এবং সেখানে বাংলাদেশিদের কাজের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। ইতোমধ্যে বাহরাইনে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ফলে ওই দেশে অবস্থিত আনুমানিক ৫০ হাজার বাংলাদেশি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বাহরাইনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

শুধু তাই না, দেশটির সরকার ১১৪০ কোটি ডলার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা ওই দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ। এর বড় অংশ পাবে বেসরকারি খাত।

এ বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রণোদনার ফলে এক বছর থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি চাকরির নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে ওই বাজার ধরার জন্য।’

সম্ভাবনা

বর্তমানে বাহরাইনে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এদের বেশিরভাগই নির্মাণ ও সেবা খাতসহ অন্যান্য খাতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া একটি অংশ রয়েছেন ব্যবসায়ী, কুক, ড্রাইভার, কার্পেন্টার।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে পর্যটন, তথ্য প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সেবাসহ অন্যান্য খাতে লোক প্রয়োজন হবে এবং সেখানে বাংলাদেশিদের কাজ পাওয়ার সুযোগ আছে।’
নজরুল বলেন, ‘এদেশে লোক দরকার এবং সঠিক প্রশিক্ষিত কর্মজীবী পেলে তারা লোক নিতে আগ্রহী। ওই প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে ভবিষ্যতে আরও লোক প্রয়োজন হবে।’

সাধারণ ক্ষমা

এ মাসের প্রথম সপ্তাহে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর মেয়াদ থাকবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে অবৈধ হয়েছে, তারা আবেদন করতে পারবেন। তবে যারা পর্যটক ভিসা নিয়ে বাহরাইনে গেছেন, তারা আবেদন করতে পারবেন না। যারা আবেদন করবেন তাদের কোনও জরিমানা দিতে হবে না। এছাড়া আগামী জুন মাস পর্যন্ত বিদেশিদের মাসিক ফি মওকুফ করেছে ওই দেশের সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত নজরুল বলেন, ‘আমাদের হিসাব মতে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশির আবাসিক কার্ড নেই এবং এর ফলে তারা উপকৃত হবেন।’

এর মধ্যে একটি বড় অংশ বাহরাইনে বৈধ হয়ে যাবে এবং আরেকটি অংশ দেশে ফেরত যাবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত।

উল্লেখ্য, শেষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই সময়ে ৪২ হাজারের বেশি বিদেশি এর সুবিধা নিয়েছিলেন। তখন প্রায় ৩২ হাজার বৈধ হয়েছিলেন এবং ১০ হাজারের বেশি ফেরত গিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কারণে পাসপোর্ট প্রদানসহ অন্যান্য কনস্যুলার সংক্রান্ত যে বাড়তি কাজ তৈরি হবে, তার জন্য ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

অবৈধভাবে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশির পাসপোর্ট নেই, তারা আবেদন করা শুরু করেছে এবং তাদের জন্য বাড়তি লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুততার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

নজরুল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছি যাতে করে তারা এই সুবিধা নেয়। অন্যদিকে এখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করছি যাতে করে তারা বাংলাদেশিদের সুযোগ দেয়।’

করোনাভাইরাসের সাময়িক প্রভাব

চলমান সংকটের কারণে বাহরাইনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বৈধভাবে অবস্থানরত প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি চাকরি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এক লাখের ওপরে বাংলাদেশির চাকরির সমস্যা না হলেও বেতন কমে যেতে পারে বলে আমরা অনুমান করছি।’

এদের একটি অংশ দেশে ফেরত যেতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়েছে, যার অধীনে ফেরত আসা প্রবাসীদের সাত লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজারের মতো বাংলাদেশির সহায়তার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজারের এখনই খাদ্য সহায়তার দরকার বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

নজরুল জানান, ‘খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে, যেটি আগামী মাস পর্যন্ত চালু রাখা হবে এবং ইতোমধ্যে এজন্য আমরা একটি বরাদ্দ পেয়েছি। এছাড়া এখানে সচ্ছল বাংলাদেশি সম্প্রদায় ও দাতব্য সংস্থার সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ রাখছি, যাতে তারা দুস্থদের সহায়তা দেয়।’

  •