হবিগঞ্জে বন্যার পূর্বাভাস, ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

19

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে আগাম বন্যার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ জন্য কৃষকদের ধান কেটে নেওয়ার জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেশি বেশি শ্রমিক দরকার কৃষকদের। কিন্তু কারোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলায় শ্রমিক সংকট দেখ দিয়েছে। বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ণ বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, ২০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং ভারত আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। হবিগঞ্জের হাওর অঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে এবং আগাম বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় বোরো ধান দ্রুত কেটে নিতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ পূর্বাভাসের পর থেকেই কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্য জেলা থেকে কৃষি শ্রমিক আসতে পারছে না। যে কারণে তাদের বোরো ধান কাটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছেজেলার বানিয়াচং উপজেরার দক্ষিণ সাঙ্গর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘করোনার কারণে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আসতে চান না। অন্য জেলা থেকে আসার সময় পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হয়।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় শ্রমিকরা পরিবহন সংকটের কারণে আসতে চাচ্ছে না, যে কারণে ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। আবার শুনলাম বন্যা হবে কয়েকদিনের মধ্যেই, এ কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি।’

জেলার বানিয়াচং উপজেলার নয়াপাতারিয়া গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, ‘করোনার অজুহাতে শ্রমিকরা ৮শ’ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত মজুরি চায়। কিন্তু এত টাকা দিয়ে শ্রমিক আনা সম্ভব নয়। তাই নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের নিয়েই ধান কাটতে হচ্ছে।’

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘হবিগঞ্জে শ্রমিকের কোনও সংকট নেই। অন্য জেলা থেকে শ্রমিক এনে সমন্বয় করা হবে।’

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘কেউ বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক এনে কাজ করাতে চাইলে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে রেখে তাদের দিয়ে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান কাটতে পারে, এ জন্য সব ধরনের সহযোগিতা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ বছর হবিগঞ্জে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয়েছিল বানিয়াচঙে ৩৫ হাজার একশ’ হেক্টর জমিতে।

  •