জগন্নাথপুরে ধান কাটতে মসজিদে মাইকিং

21

জগন্নাপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বিভিন্ন হাওরে ধান পাকতে শুরু করলেও শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষকরা। এছাড়া রয়েছে প্রতিকূল পরিবেশ আর আগাম বন্যার আশঙ্কা। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওরে পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা কৃষক।

তবে হাওরের ধান দ্রুত কাটতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এরমধ্যে গতকাল রোববার (১৮) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জগন্নাথপুরে বিকেল চারটা পর্যন্ত সকল দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ সময় কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট দোকানপাট খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

এদিকে আগাম বন্যার আশঙ্কায় হাওরে দ্রুত ধান কাটার জন্য প্রতিটি মসজিদে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সাথে হাওরে শ্রমিক সংকট এড়াতে স্থানীয় শ্রমিক এবং করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়া অটোরিকশা, টমটমসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কর্মহীন মানুষদের ত্রাণ সহায়তার মাধ্যমে ধান কাটার কাজে লাগানোর জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তা ছাড়া অন্য এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতে কোথাও বাধার মুখে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন তাদের সহায়তা করবে বলে জানায়।

নলুয়ার হাওরের বাউধরন গ্রামের কৃষক সিদ্দিক মিয়া বলেন, হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল পেকে গেছে। শ্রমিক সংকটে পাকা ধান নিয়ে আমরা দিশেহারা।

হাওর বাঁচাও উপজেলা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরসহ উপজেলার প্রতিটি হাওরে পাকা আধা পাকা বোরো ধান রয়েছে। কৃষকরা শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান কাটতে পারছেন না। একদিকে করোনার থাবা অন্যদিকে আগাম বন্যার শঙ্কা। এঅবস্থায় কৃষকের পাশে দাঁড়াতে সম্প্রতি বেকার হয়ে পড়া লোকজনকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, হাওরের ধান কাটতে বাহির থেকে জগন্নাথপুরে লোকজনে আসতে চাইলে তাদের কে আমরা সহায়তা দেব। কঠিন এই পরিস্থিতিতে শঙ্কিত কৃষকের কষ্টের ফসল গোলায় তুলতে বেকার কর্মহীন বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনকে সরকারী সহায়তার মাধ্যমে হাওরের ধান কাটার কাজে লাগানো হবে।

জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ২০ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা ত্রাণসামগ্রী দিয়ে শ্রমিকদেরকে ধান কাটতে মাঠে নামানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

  •