যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আরও ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট ১৭৪

13

সবুজ সিলেট ডেস্ক
একদিনে লকডাউন ভাঙার জন্য মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে, অন্যদিকে প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। করোনাভাইরাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে হতে এরই মধ্যে ৪০ হাজার পার হয়ে গেল। প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

মৃত্যুর মিছিলে রবিবার আরও ৭ বাংলাদেশির নাম যোগ হয়েছে। তাঁরা হলেন- এনওয়াইপিডি ট্রাফিক সেকশন কমান্ডার মোহাম্মদ মুজিব চৌধুরী,এবাদ হোসাইন, মোঃ আলী, হাফেজ আহমদ মোল্লা, তালেব আহমেদ চৌধুরী(মেরিল্যান্ড), খন্দকার মোসাদ্দিক ,আলী সাদেক। এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৪ জন বাংলাদেশির করোনায় মৃত্যু হয়েছে।

করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র ডি ব্লাজিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প – কি হচ্ছে এসব ? আপনার জিহ্বা কি বিড়ালে পেয়ে বসেছে ? ব্লাজিও বলেছেন, যে নগরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় হয়েছেন, যে মানুষদের নিয়ে বেড়ে উঠেছেন তাদের রক্ষা করতে তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন। এ নগরীর প্রতিটা সুবিধা গ্রহণ করেছেন কিন্তু নিউইয়র্ক নগরীর প্রয়োজনের সময়ে আপনি কোথায়? ডি ব্লাজিও এমন প্রশ্ন রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে।

১৯ এপ্রিল রবিবার তিনি নতুন প্রণোদনা তহবিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটে আইন প্রণেতারা এরমধ্যেই আরেকদফা প্রণোদনা তহবিল নিয়ে কথা বলছেন।

নিউইয়র্কের রাজ্য গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো ও মেয়র ব্লাজিও আবেদন জানিয়েছেন নিউইয়র্কের জন্য ফেডারেল সরকারের বর্ধিত সাহায্যের জন্য। নিউইয়র্ককে স্বাভাবিক অবস্থার জন্য খুলে দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় ফেডারেল সাহায্য নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য ও নগর নেতৃদ্বয় বারবার আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা।

মেয়র জানিয়েছেন, নগর জুড়ে টেস্টিংয়ের আওতায় আসা লোকজনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ৪২ থেকে ৩৮ শতাংশে নেমেছে ঠিকই। তবে সরকারি ল্যাবে পরীক্ষায় আসা লোকজনের মধ্যে সংক্রমণের হার ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে গিয়ে ৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্কে করোনাভাইরাস পরিস্থিত উন্নতি অবনতি নিয়ে মিশ্র তথ্য দিয়েছেন মেয়র ডি ব্লাজিও।

তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেছেন, সামাজিক দূরত্ব এখনো আমাদের কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।আদেশ না মানলে জরিমানা করা হবে। আদেশ লঙ্ঘনকারীদের তথ্য জানানোর জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

করোনা সামাল দিতে আমেরিকার নানা প্রান্ত থেকে আসা ১৪০০ স্বেচ্ছাসেবী নিউইয়র্কে কাজ করছেন রাজ্যের ৪০টি হাসপাতালে। মার্কিন সেনাবাহিনীর ৫৩৫ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও নগরীর হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে কাজ করছেন। ১৯ এপ্রিল রবিবার জানানো হয়েছে নগরীর পাঁচ বরোর হাসপাতালে ৩৪৬০২ জনের চিকিৎসা চলছে।

রবিবারে মৃত্যুর তালিকায় ৫২৮ জনের নাম যুক্ত হয়ে নগরীতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১২৭১২ জনে। এরমধ্যে ৮৮১১ জনের করোনায় নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৪২৯ জন সম্ভাব্য করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, তিনি দ্রুত সবকিছু খুলে দেয়ার পক্ষে। কোন কোন রাজ্য গভর্নর সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং-এর নামে বাড়াবাড়ি করছেন বলেও বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নগরীতে লকডাউনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সহানুভূতি দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন আমি সবার সাথেই আছি।

  •