২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনামুক্ত হলেন ১০ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

13

সবুজ সিলেট ডেস্ক
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া নতুন করে আরো ৪৯২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট দুই হাজার ৯৪৮ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) নিয়মিত অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মোট দুই হাজার ৭৮৯ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ২৬ হাজার ৬০৪ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তাই মোট সুস্থ রোগী হলো ৮৫ জন।’

নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে পর পর দুটি টেস্টে যদি আমরা নেগেটিভ দেখি তাহলে আমরা ধরে নেই রোগী আর করোনায় আক্রান্ত নয়। তখন আমরা তাকে সুস্থ হিসাবে বিবেচ্য করি।’ তিনি বলেন, ‘গতকালের থেকে আজ নমুনা সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি এবং পরীক্ষা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৫৭ জনকে, এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে রাখা রোগীর সংখ্যা ৭১৩।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছে ৪০ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছে ৫৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৩০ হাজার ৮০৯ জন, এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৬২৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে গেছে ২৭০ জন, এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে পাঁচ হাজার ৫৮৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টিনে গেছে ৩১ হাজার ৭৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ ৫৫ হাজার ২২৪ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছে এক হাজার ৮৪৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছে ৭৫ হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে মোট হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৭৫ হাজার ৭৪৭ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে চার হাজার ৬৫৫ জন। মোট কোয়ারেন্টিনে আছে ৮০ হাজার ৪০২ জন।’

নাসিমা আরো বলেন, ‘এখন ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা গাজীপুরে অনেক বেশি পরিমাণে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। গাজীপুরে প্রায় ১৯.৫ ভাগ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপরে কিশোরগঞ্জে ১৩.৫ ভাগ, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে আগের মতোই রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ১০ জন নতুন আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় পাঁচজন, নারায়ণগঞ্জে চারজন ও নরসিংদীতে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃতদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি চারজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে চারজন ও ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুজন রয়েছেন।

অনলাইনে প্রেস বিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর)। এর ১০ দিন পর দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় একজনের। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত ক’দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সেই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

  •