যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতিতে ফোবানা’র ‘দুর্যোগ মোকাবেলা ত্রাণ প্রকল্পে’র উদ্যোগ

14

কামরুজ্জামান হেলাল,
যুক্তরাষ্ট্র:

মহামারী করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) প্রতিরোধে ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)’র উদ্যোগে দুর্যোগ মোকাবেলা ত্রান প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান শাহ্‌ হালিম ও নির্বাহী সচিব ডাঃ আহসান চৌধুরী সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এছাড়া আমেরিকা প্রবাসী ডাক্তারদের সহযোগিতায় বাঙালিদের জন্য চালু করা হয়েছে জরুরী স্বাস্থ্য সেবা হট লাইন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “করোনা ভাইরাসের অপ্রতিরোধ্য সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখী দাঁড়িয়ে গৃহবন্দী জীবন যাপন করছে। উত্তর আমেরিকা এবং বাংলাদেশেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। উত্তর আমেরিকায় আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রায় দুই শতাধিক পরিবার তাদের আপনজন হারিয়ে আজ অসহায় মর্মবেদনায় অনির্বচনীয়ভাবে ভারাক্রান্ত, অনিশ্চিত তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ কমিউনিটির অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, অনেকে এখনো মৃত্যুর সাথে লড়ছেন, অনেক নতুন অভিবাসী পরিবার হিমশিম খাচ্ছেন বেঁচে থাকার সংগ্রামে। মহামারীর এমনি দু:সময়ের সন্ধিক্ষণে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বৃহৎ সংগঠন ফোবানার কেন্দ্রীয় কমিটি এই প্রথমবারের মতো “দূর্যোগ মোকাবেলা ত্রাণ প্রকল্প” হাতে নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে কভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের পাশে এসে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবেলা প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে খাবার ও জীবনধারণের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী প্ৰদান করা হবে। উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগানসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশী পরিবারের মধ্যে এই সেবা পৌঁছে দেয়া হবে।

নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি শহরে এই সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের নীলফামারীর এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবহেলিত মৃত্যু সম্মুখীন ২৩২টি পরিবারের জন্য ফোবানার পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যন্য এলাকায়ও যথাসম্ভব এই সেবাদান কর্মসূচি নেয়া হবে ফোবানার পক্ষ থেকে। দেশে প্রবাসে বাঙালিদের দুর্যোগময় মুহূর্তে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে ফোবানা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং তাদের এই সেবাদানকারী প্রকল্প ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার জন্য ফোবানা’র এই প্রকল্প কার্যকর থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ”।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই মহাদুর্যোগকে মোকাবেলা করার জন্য ফোবানার “দুর্যোগ মোকাবেলা ত্রাণ তহবিলে” ইতোমধ্যে চৌদ্দ হাজার ডলার (১৪,০০০) সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ত্রিশ হাজার ডলার (৩০,০০০) সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নিয়ে সদস্যদের কর্মতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই মর্মান্তিক সময়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির সকলকে এগিয়ে আসার জন্য ফোবানার পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ ও আবেদন জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির সকল সংকটাপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো এই মুহূর্তে আমাদের একটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব”।

এছাড়া গত ১৯ এপ্রিল ফোবানা আয়োজিত কভিড-১৯ মহামারী থেকে উত্তরণের প্রত্যাশায় অনুষ্ঠিত অনলাইন বা ভার্চুয়াল ধর্মীয় প্রার্থনা ও দোয়া অনুষ্ঠানেও বিভিন্ন পেশা, শ্রেণী, ধর্মের অভিবাসী নাগরিক অংশগ্রহণ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক থেকে ইমাম মৌলানা কাজী খৈয়াম, ও ফাদার রেভারেন্ড মিন্টু জারভেস রোজারিও এবং ভার্জিনিয়া থেকে ঠাকুর শ্রী সাধক চক্রবর্তী। সেসময় ফোবানার বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সংগঠকবৃন্দ, প্রাক্তন সংগঠকবৃন্দ ও বিভিন্ন উপ-কমিটির সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। দোয়া-প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী মহামারীর প্রকোপে যেসব বাঙালি ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে করোনা আক্রান্তদের সুস্থ্যতার জন্য প্রার্থনা করা হয়।
এছাড়া জরুরী স্বাস্থ্য সেবা হট লাইন প্রকল্পে ফোবানা সংগঠক ও প্রবাসী চিকিৎসক মুহাম্মদ আলী মানিক ও অপর চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা মানবতার সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছেন বলে জানানো হয়েছে। উত্তর আমেরিকার যেকোন জায়গায় কোন প্রবাসী বাঙালি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বা করোনার লক্ষণসমূহ দেখা দিলে তাদেরকে অনতিবিল্পম্বে স্বাস্থ্য সেবা হট লাইনের নাম্বারে যোগাযোগ করে মাতৃভাষায় কথা বলে পরামর্শ গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে
উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফোবানার পক্ষ থেকে ফেইসবুক পেইজ খোলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তথ্য বিনিময়ের জন্য এবং সাধ্যমত যার যার সহযোগিতা বা অনুদানের অর্থ প্রদানের জন্য ফেইসবুক পেমেন্ট (Facebook Payment) এবং ‘পে পাল’( Pay pal)-এর সহজ ব্যবস্থা করা হয়েছে লিংকসহ এই ত্রাণ প্রকল্পের আওতায়। যেকোনো তথ্যের জন্য আপনারা নিম্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে যেকোন সময় যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে গুরুত্মপূর্ণ কিছু লিংক দেয়া হলো। অনুগ্রহ করে এই লিংকগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন এবং আপনাদের অনুদান প্রদান করতে পারবেন। আমাদের সবিনয় অনুরোধ, আপনি সাহায্য করুন এবং অন্যদেরকেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে অনুপ্রাণিত করুন। আসুন আমরা সবাই মিলে এই মহামারীর মোকাবেলা করে আমাদের ভাই-বোনদের প্রাণ রক্ষায় এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসি”।
Contacts:
Shah Haleem, Chairman, FOBANA, Cell: 281-748-9880
Dr Ahsan Chowdhury (Hero), Executive Secretary,FOBANA, Cell: 512-413-9193

  •