প্রাণ ফিরেছে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে

18

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
সবুজ পাতা হলদে হতে চলেছিল, সেই সাথে ছিলো পুরনো পাতায় ধুলা। শুষ্ক মৌসুমে সবুজ চা পাতা খানিকটা ফেঁকাসে থাকলেও এখন বৈশাখের বৃষ্টিতে সতেজ হতে শুরু করেছে মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের বাগানগুলো। গজাচ্ছে নতুন কুড়ি। এ যেন বৃষ্টি রঙ মাখিয়েছে চায়ের পাতায়। তাইতো ফেঁকাসে চায়ের পাতায় এখন সবুজের এ দৃশ্য নয়নাভিরাম। প্রাণ ফিরে পেয়েছে চা বাগানগুলো।

চা শ্রমিকরা মনের আনন্দেই চয়ন করছেন কুড়ি। জন্মগত ভাবে চা পাতার সাথে সখ্যতা নিয়ে বেড়ে ওঠা চা শ্রমিক নারীরাও শৈল্পিক হাতে চয়ন করছেন চায়ের কুড়ি। নতুন কুড়িতে যেন তাদের নতুন আনন্দ, নতুন করে বছর শুরুর এক গল্প।

গত কয়েক মাসের তীব্র তাপ দাহ ও খরায় চা বাগানের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে কয়েকদিনে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সেই আশংকা দূর হয়েছে। এতে প্রাণ ফিরে পাওয়া প্রকৃতির দুটি পাতা একটি কুঁড়িতে ছেয়ে গেছে চা বাগানগুলো। চারিদিকে এখন কেবলই সবুজের সমাহার। এদিকে করোনা পরিস্থিতিতেও সরকারী সিদ্ধান্তে চা বাগানগুলো চালু রাখা হয়েছে। তবে সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্বসহ সরকারী সব নির্দেশনা মেনে চা বাগানে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চলছে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত আর কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চা বাগান খোলা রাখার সরকারী সিদ্ধান্তের কারণে হাজার হাজার কেজি চা পাতা নষ্টের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে ১ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০৯ (ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রচণ্ড খরার পরপরই টানা বৃষ্টিপাতে চা বাগানগুলো যেন তার সজীবতার আসল রূপ ফিরে পায়।

সরেজমিন মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গল শহরের কাছাকাছি ভাড়াউড়া, ও ভুরভুরিয়া, চা বাগানে দেখা গেছে, নারী চা শ্রমিকরা চা পাতা চয়ন করছে। কর্ম ব্যস্ততা দেখা গেছে বাবু, সর্দার আর চৌকিদারদের।

বাংলাদেশ চা-সংসদের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান ও ফিনলে টি কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলি বলেন, টানা ২-৩ দিনের বৃষ্টিতে চা গাছে নতুন কুঁড়ি এসেছে। ফলে এরই মধ্যে আমরা পাতা চয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি।

চা বাগান চালু রাখার সরকারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এ চা-বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত চা বাগান বন্ধ রেখেছে। আগামী মাসে খোলার কথা রয়েছে। আমরা এই সময়কে কাজে লাগাতে পেরেছি। তিনি বলেন চা বাগান বন্ধ হলে অভাবনীয় ক্ষতির মুখে পড়তো চা শিল্প। এখনকার কুঁড়ি সময় মতো চয়ন করা না গেলে এই পাতা বুড়ো হয়ে নষ্ট হতো। আর নতুন কুঁড়ির জন্য ৪০-৪৩ দিন অপেক্ষা করতে হতো। এতে করে সার্বিক চা উৎপাদন প্রক্রিয়া কয়েক মাস পিছিয়ে যেত আর বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তো চা শিল্প।

তিনি বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় চা বাগানগুলোতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কাজের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায়, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সরকারী সকল বিধি নিষেধ মেনে চলতে বাগানগুলোতে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ রোগপ্রতিরোধ উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে বলে শিবলি জানান।

  •