যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রেস কনফারেন্স এবং গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি ।

10
কামরুজ্জামান হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র:
 গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় মিশিগান স্টেটের সেনেটর পল ওয়াজনো, সেনেটর এ্যাডম ওলিয়্যে, স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ লরি স্টোন এবং জো টেইটের সাথে যৌথ ভাবে ড. রাব্বী আলম, ইমাদ হামাদ আরিফ হাসকিক, এবং হরল্ড্য ডয়েজারের এক মিটিংয়ের মাধ্যমে রেজ্যুলেশন এবং প্লাটফর্ম মিটিংয়ের মধ্যদিয়ে ড. রাব্বী আলম মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন উইটমারের প্রেস সেকরেটারী গিধ্য়া ডেগার এবং সেনেট মিডিয়া সেক্রেটারী মারিও মারোর মাধ্যমে রেজ্যুলেশন পেশ করেন । এসময় জুমের এই মিটিং – এ ডিট্রয়েট ফ্রি প্রেস, লোকাল – ৪, ফক্স নিউজ -২, লোকাল -৭ এবং ডব্লিউ-এক্স-ওয়াই-জেডের প্রতিনিধি গন উপস্তিত ছিলেন । সিনেটর গন এবং রিপ্রেজেনটিভ বৃন্দ বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির এই বিশেষ উদ্দোগকে স্বাগত জানান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ।
সিনেটর পল ওয়াজনো বলেন – আজ এই দুর্যোগের সময় হ্যামটরমিক, ওয়ারেন এবং মেট্রো ডিট্রয়েটের বসবাসরত বাংলাদেশী নেত্রীবৃন্দের সাহসী পদক্ষেপ এবং ভুমিকার জন্য আমরা মিশিগানের সিনেট থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সিনেটর এ্যাডম ওলিয়্যে বলেন আজ এমন দিনে আমাদের ডেমোক্রাটিক পার্টির গভর্নরের সাথে একত্বতার জন্য এই মিডিয়া কনফারেন্স কে আমরা এ্যাকনলেজ করছি এবং তিনি গভর্নর গ্রেচেন উইটমারের বরাত দিয়ে বলেন – আমার নির্বাচনী এলাকার বাংলাদেশী-আমেরিকান নাগরিকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা বৃদ্ধি হল আজ । স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ লরি স্টোন বলেন “আপনাদের এই স্মারক লিপি আমরা যৌথ-হাউজ এবং সেনেটের মাধ্যমে গভর্নরের অফিসে হস্তান্তর করেছি । বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ ইয়েমেনী, পোলিশ, বসনিয়ান, এবং সকল এ্যাট-লার্জ কমিউনিটির প্রান চালিকা শক্তি হল বাংলাদেশী কমিউনিটি – একটি প্রগতিশীল, ছোট্ট কিন্তু শক্তিশালী জনগোষ্ঠীর উহদাহরন আপনারা । মিশিগানের গভর্নরের লক ডাউন এক্সিকিউটিভ অর্ডার ২০২০-২১ স্টে হোম এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার হুকুমকে আরও বর্ধিতকরনের আহব্বান জানিয়ে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক ডাউন বাতিলের পায়তারা কে নাকচ করে যৌথ ভাবে আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল এ্যাকশান কমিটি – এমপ্যাক, এলায়্যান্স অব সাউথ এশিয়ান লেবারের – মিশিগান চ্যাপ্টার (আসাল – মিশিগান), বাংলাদেশী আমেরিকান পলিটিক্যাল এ্যাকশান কমিটি – (ব্যাপাক) এবং আমেরিকান হিউম্যান রাইট্স কাউন্সিল (এ. এইচ. আর. সি) এই জয়েন্ট রেজুল্যুশান প্রস্তাব করেন । দ্বিতীয় ধাপে দুপুর ১২:৩০ মিনিটে ডিট্রয়েট পাবলিক লাইব্রেরির সম্মুখে এবং হ্যামট্রমিকের বাংলাদেশীদের জিরো পয়েন্ট বাংলাটাউন সাইন সংলগ্ন এলাকায় প্রেস কনফারেন্সে স্মারকলিপি পাঠ করেন এমপ্যাকের চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক ড. রাব্বী আলম, আসালের মিশিগান চ্যাপ্টারের কার্যকরী ভাইস প্রসিডেন্ট এবং মিশিগান ডেমোক্রাটিক পার্টির ১৪ তম কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান মিনহাজ রাসেল চৌধুরী, বাংলাদেশী আমেরিকান পলিটিক্যাল এ্যাকশান কমিটির এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য এবং মিশিগান স্টেট আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল রহমান এবং আমেরিকান হিউম্যান রাইট কাউন্সিলের কার্যকরী সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গঁবন্ধু পরিষদের কার্যকরী সদস্য কানুন দনেল বডুয়া। নেতৃবৃন্দরা বলেন করোনা ভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি অবনতির দিকে । যুক্তরাষ্ট্রের করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট লাখের অধীক এবং মৃত্যের সংখ্যা পয়তাল্লিশ হাজারের ও বেশী । এরই মধ্যে মিশিগানের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার এবং মৃত্যুের সংখ্যা ২৭’ শত । এমতবস্থায় কোন ভাবেই স্টে হোম এক্সিকিউটিভ অর্ডার কে বাতিল করা যাবে না । বরং এটা কে বাড়াতে হবে । ড. রাব্বী আলম বলেন আজকের এই যৌথ প্রেস কনফারেন্স একটি গুরুত্বপুর্ন পদক্ষেপ । আমরা আজ এখানে সমবেত হয়ে গভর্নর হুইটম্যার, লেফটেন্যান্ট গভর্নর গারলিন গিলক্রিষ্ট এবং স্টেটের এক্সিকিউটিভ অফিসকে ধন্যবাদ জানাই । আমরা মার্চের ১০ তারিখে ল্যান্সিং এ ক্যাপিটাল এ সেনেটের বিশেষ আমন্তনে সাংসদীয় অধিবেশনে যোগদান করেছিলাম । সেখানে বাংলাদেশের জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুকে এক বিরল সন্মাননা দেওয়া হয়েছিল । আজ অত্যন্ত দুখ ভরাক্রান্ত মনে বলতে হচ্ছে আমাদের বন্ধু রিপ্রেজেনটেটিভ আইজ্যাক রবিনসন আজ আর আমাদের মাঝে নেই । মরন ব্যাধি করোনায় আক্রান্ত হয়ে রবিনসন মারা গেলেন এবং আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন । শুধু রবিনসন নয় এরকম ৪৫ হাজার মানুষ আমেরিকাতে করোনায় মৃত্যু বরন করেছে । আর সারা পৃথিবীতে ২.৬ মিলিয়ন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ মারা গেছে । সুতরাং করোনা – কভিড ১৯ কোন ছেলে খেলা ব্যাপার নয় । এটা সিরিয়াস এবং ভয়ংকর । এই মৃত্যুর হার বিচার করে এই মুহুর্ত মিশিগানের বর্ডার খোলা চলবে না । আমি গভর্নর কে আহ্হ্বান জানাবো যে – মুসলমান, অভিবাসী এবং সংখ্যা লঘু বাংলাদেশী নাগরিক আপনার সাথে আছি । আর হ্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প আপনি আপনার এই অপরিপক্ক পায়তারা বন্ধ করুন। মিনহাজ রাসেল বলেন আমাদের জনগন খেটে খাওয়া কাজকর্ম করে খাওয়া মানুষ । অনেকে মিল কলকারখানায় এবং দিনমুজুরের কাজ করেন । এখানে এখন করোনায় সংক্রমিত হবার সম্ভবনা বেশী । এখন ট্রাম্পের কথা শুনে লক ডাউন বাতিল করলে আমরা বিপদে পড়ে যাব। সুতরাং আমি ও আমাদের সংগঠন আসাল মিশিগানের গভর্নরের সাথে একমত যে – লকডাউন আবশ্যক এবং এটাকে কনটিনিউ করতে হবে । নজরুল রহমান বলেন আজ আমাদের মানুষ ইতিমধ্যে মারা যাচ্ছে । এখন আপনারা ঘরে থাকুন । এখন কাজ করে নিজে করোনায় আক্রান্ত হলে কাল আপনার পরিবারকে কে দেখবে? আসুন আমরা সাবধানতা অবলম্বন করি এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখি । আগে বাঁচুন – পরে বেঁচে থাকলে কাজ করা যাবে । আর যদি আমরা বেঁচে না থাকি তাহলে পরে কি ভাবে কাজ করবেন । সুতরাং আসুন আমাদের সাথে এক হয়ে আমরা আমাদের গভর্নরের পাশে দাঁড়াই । কানুন বডুয়া বলেন আজ মানব সভ্যতা হুমকির মুখে । আজ ট্রাম্পের পাগলামী আর খামখেয়ালী পনা শুনলে চলবে না । আজ আমাদেরকে সচেতন হতে হবে এবং সিডিসি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে । আমরা যদি এখন লক ডাউন বাতিল করে দিলে অল্পদিনের মধ্যে আবার ও লক্ষ লক্ষ মানুষ করোনায় সংক্রমিত হবে । সুতরাং মাননীয় গভর্নর দয়াকরে আপনি আপনার “বাড়ীতে লক ডাউন থাকার” এক্সিকিউটিভ অরডারটি চালিয়ে যান । আমরা আছি আপনার সাথে । পরিশেষে তিনি ড. রাব্বী আলমকে ধন্যবাদ জানান । ড. রাব্বী আলম সকল মিডিয়া আউটলেট এবং সিনেট ও হাউজের মেম্বার এবং সকল আয়োজক সংগঠনের নেতৃত্ব দানকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার পরিসমাপ্তি ঘোষনা করেন।
  •