গোয়াইনঘাটে ছালেকগংয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল লামা ফতেহপুর সড়ক

137

স্টাফ রিপোর্টার
গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লামা ফতেহপুর গ্রামের সড়কের প্রতিবন্ধকতা দীর্ঘ ১৬ বছর পর গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদের হস্তক্ষেপে দূর হয়েছে। এতে গ্রামের মানুষের মধ্যে আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। লামা ফতেহপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত সড়কটির বাধা দূর হওয়ার করাণে গ্রামে মানুষ উৎফুল্ল।
জানা যায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান নুরুল হাসান ও মেম্বার ফকর উদ্দিনের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। নারায়ণপুর গ্রামের মরহুম মাওলানা কলিম উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লা, মাতাব এবং বদরুল ও মরহুম মাওলানা ইমদাদ উল্লাহর ছেলে ছালেক আহমদ ও জোবের আহমদ তাঁদের দাদা হাজি আব্দুল গফুরের নামে অযুক্তিকভাবে ভুল তথ্য প্রদান করে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ চৌধুরীর কাছ থেকে একটি প্রত্যায়নপত্র নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বেক রাস্তায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ‘হাজি আব্দুল গফুর রোড’ নামকরণের চেষ্টা করলে গ্রামবাসী তাতে বাধা প্রদান করে।
বাধা প্রদান করার কারণে পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে সরকার থেকে রাস্তা মেরামতের জন্য দফায় দফায় বরাদ্ধ এলে তা ফিরে যায় ছালেকগংয়ের কারণে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী সরজমিনে তদন্ত করে জানতে পারেন গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের জায়গার ওপর দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে তিনি ‘হাজি আব্দুল গফুর রোড’ নামে দেওয়া প্রত্যায়নপত্র বাতিল করেন এবং লাম াফতেহপুর নামে একটি প্রত্যয়নপত্র এলাকাবাসীর নিটক প্রদান করেন।
প্রত্যায়নপত্র বাতিল করার পর ছালেক আহমদ গং রাস্তাটি কেটে ফেলার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী বিগত ১৯ এপ্রিল আরেকটি প্রত্যয়পত্র প্রদান করেন।
প্রত্যয়নপত্রে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন ৬ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর মৌজার লামাফতেহপুর গ্রামের রাস্তাটি নারায়ণপুর গ্রামের মরহুম মাওলানা কলিম উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লা, মাতাব ও বদরুল এবং মরহুম মাওলানা ইমদাদ উল্লাহর ছেলে ছালেক আহমদ ও জোবের আহমদ রাস্তার কাজে বাধা সৃষ্টি করছে বলে একটি লিখিত প্রত্যয়নপত্র দেন। এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যতাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
ঐ দিনই এলাকাবাসীর পক্ষে গণস্বাক্ষরিত একটি সাধারণ ডায়েরি (৮৪) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোয়াইনঘাট থানা বরাবর দায়ের করেন লামা ফতেহপুর গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. ইসলাম আলী। তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, লামা ফতেহপুর গ্রামের রাস্তাটি ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর একটি পরিবার অযৌক্তভাবে হাজি আব্দুল গফুর নামে রাস্তা নামকরণ করতে চায়। অথচ এই রাস্তাটি অর্ধশতাধিক মানুষের জায়গার উপর দিয়ে গিয়েছে। ছালেক আহমদ গংয়ের বাধার কারণে রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষে যাতায়াতের একামত্র রাস্তাটি বর্ষাকালে মানুষ চলার অনুপোযুগী হয়ে পড়ে।
সাধারণ ডায়েরির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আহাদের নির্দেশে এসআই কাওছার সরজমিনে তদন্তে আসলে তিনি রাস্তাটি দেখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ছালেক আহমদ গংকে ঢেকে এনে রাস্তার কাজে বাধা প্রদানের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে দীর্ঘ ১৬ বৎসর পর তারা রাস্তায় নামকরণ সহ তাদের অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাহার করে রাস্তা তাদের কোন বাধা নেই বলে জানায়।
এ ব্যাপরে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল আহাদ বলেন, পুলিশ জনগণের সেবক। সরকারি রাস্তা বা যেকোন ব্যাপারে অভিযোগ আসলে আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
এ ব্যাপারে ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন আমার কাজের ব্যস্ততা ও অজান্তে মাওলানা কলিম উল্লার ছেলে বদর উদ্দিন বদরুল তাদের দাদা হাজি আব্দুল গফুর নামে লামা ফতেহপুরের রাস্তা নামকরণ করতে একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী আমাকে অফিযোগ জানালে আমি সরজমিনে তদন্ত করে পূর্বের দেওয়া প্রত্যায়ন পত্র বাতিলে করে লামা ফতেহপুর নামে যথারীতি একটি প্রত্যায়নপত্র প্রদান করি। আমি দীর্ঘদিন থেকে এই রাস্তাটি নির্মাণের চেষ্টা করলে ছালেক, বদরুল, মাতাব, আব্দুল্লা তাতে বাধা প্রদান করার কারণে বাধ্য হয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানাই।
গ্রামাবাসীর পক্ষে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা সাংবাদিক মো. ইসলাম আলী সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন অযৌক্তিকভাবে আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামের একটি পরিবার তাদের অযৌক্তি নামকরণকে কেন্দ্র করে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রকাশের জন্য রাস্তাটি সংস্কার দেয়নি। তাদের পরিবারের একজন ছালেক আহমদ ও মাতাব উদ্দিনের কারণে তাদের কাছে জিম্মি হয়েছিল লামা ফতেহপুরের সাধারণ মানুষ। গ্রামবাসীর পক্ষে আমি সাধারণ ডায়েরি করার করণে আমার পূর্ব পুরুষের মৌরশী বাড়ি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে তাঁরা।

  •