দুয়ার খুলল জান্নাতের

19

মাহে রমজান
জেগে উঠুক মানবতা

সজীব হোক প্রাণ

ফিরে এলো রমজান।

আজ এক বিশেষ তিথির আগমন ঘটেছে। যার আগমনে খুলে দেয়া হয়েছে জান্নাতের সব দুয়ার। বন্ধ হয়ে গেছে জাহান্নামের সবক’টা দরজা। নবীজি (সা.) তার সাহাবিদের রমজানের সুসংবাদ শোনাতেন। রমজানের মর্যাদার কথা বলতেন। ইবাদত ও সাধনায় মনোযোগী হওয়ার উপদেশ দিতেন। বেশি বেশি নেকি অর্জনে উৎসাহ জোগাতেন। নবীজি (সা.) বলতেন, তোমাদের দুয়ারে (অতিথি হয়ে) রমজান এসেছে।

এটি একটি পবিত্র মাস। মহান আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসে সিয়াম সাধনা ফরজ করেছেন। এ মাসে খুলে দেয়া হয়েছে জান্নাতের সব দুয়ার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জাহান্নামের সব দরজা। শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়েছে শেকলে। এ মাসে একটি রজনী রয়েছে- যা অন্য হাজার মাসের থেকেও উত্তম। যে এ মাসের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে যেন (জীবনের) সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’

আমাদের কর্তব্য হল, এ মহান অতিথির যথাযথ সমাদর করা। যথার্থ মূল্যায়ন করা। তার প্রাপ্য সম্মান দেয়া। কারণ, আমরা যদি এর উপযুক্ত মূল্য দিতে না পারি, জান্নাত লাভের এমন সুযোগকেও হাতছাড়া করে ফেলি, তা হলে এ জগতে আমাদের চেয়ে বড় হতভাগা আর কে হতে পারে! হাদিসে এসেছে- ‘নবীজি (সা.) একদিন মসজিদে নববীর মিম্বারের আরোহণ করছিলেন। মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে তিনি বললেন, আমিন। মিম্বারের দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রেখে তিনি আবার বললেন, আমিন। মিম্বারের তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখে তিনি তৃতীয়বারের মতো বললেন, আমিন। যার অর্থ- হে আল্লাহ তুমি কবুল করো। নবীজি (সা.)-এর জীবনে এ প্রথমবার এমন ঘটনা দেখে সাহাবায়ে কেরাম খোতবার পর এ বিষয়ে জানতে চাইলেন। তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘হজরত জিবরাইল (আ.) এসেছিলেন। আমি প্রথম সিঁড়িতে পা রাখতেই আমাকে (কানে কানে) বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেল অথচ তার পাপ মোচন হল না। আমি বললাম, আমিন। আমি দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখতেই তিনি বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যার সামনে আপনার নাম উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও সে আপনার ওপর দরুদ পড়েনি। আমি বললাম, আমিন। আমি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখতেই তিনি বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যে তার বাবা-মা উভয়কে পেল, অথবা উভয়ের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ সে জান্নাত লাভ করতে পারল না। আমি বললাম, আমিন।’

মনে রাখতে হবে, আমরা যেন এ অভিশপ্তদের অন্তর্ভুক্ত না হই। আমরা যত সংকটেই পড়ি না কেন, মহামারী করোনার বিপদ-আপদ পেরিয়ে শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আমরা যেন সিয়াম সাধনা থেকে বঞ্চিত না হই। আমরা হয়তো অনেকেই সাহাবি ইবনে আহমাসির (রা.) ঘটনা জানি। তিনি একবার সিয়াম অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে লড়ছিলেন। লড়তে লড়তে তিনি আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়লেন। তার সঙ্গীরা তাকে সংরক্ষিত স্থানে নিয়ে গেলেন। তারপর তারা তাকে পানি পান করতে দিলেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না।

তিনি বললেন, আমার সিয়াম ভেঙে যাবে। কিছুক্ষণ পরই তিনি দুনিয়া ছেড়ে তার কাছে চলে গেলেন, যার জন্য সিয়াম রেখেছিলেন। দুনিয়াতে সিয়াম সাধনা করে আখেরাতে মহান প্রভুর কাছে ইফতার করতে গেলেন। হজরত ওমর (রা.) এ ঘটনা শুনে বললেন, এ সাহাবি দুনিয়া দিয়ে আখেরাতকে কিনে নিয়েছেন।

প্রিয় পাঠক, আমরা বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে এ মাসের দিন-রাতগুলো কাটানোর প্রস্তুতি নেব। দ্বিগুণ উৎসাহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমল করব। আশা করি আমরা আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে উঠব। কারণ হাদিসে এসেছে- আল্লাহ বলেন, সাওম আমারই জন্য, এর পুরস্কার আমি নিজ হাতেই দেব। তাই আসুন, আমরা ইবাদতের রকমারি আয়োজন দিয়ে মাহে রমজানকে স্বাগত জানাই।

লেখক : হাফেজ, মাওলানা, মুফতি, লেখক ও গবেষক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

  •