ওসমানী থেকে পালিয়ে যাওয়া করোনা রোগী আমেনা উদ্ধার

38

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট ওসমানী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া করোনা আক্রান্ত সেই আমেনা বেগমকে নিয়ে সৃষ্ট রহস্যজট খুলতে শুরু করেছে। তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে। শনিবার বিকেলে সিলেট শহরতলীর খাদিম নগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর এলাকার কাকুয়ারপারস্থ আমেনা বেগমের নানার বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। খাদিম নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দিলোয়ার হোসেন। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসা আমেনা বেগম একই ইউনিয়নের লাখাউড়া গ্রামের অস্থায়ী বাসিন্দা। ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন ওয়ার সময় আমেনা বেগম তার ঠিকানা দেয় এয়ার পোর্ট এলাকা। স্বামীর নাম শাহিন কবির উল্লেখ করলেও মোবাইল নাম্বার দিয়ে আসে বাবা শফিক মিয়ার। কিন্তু আমেনা বেগমের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে বাবা শফিক মিয়ার মোবাইল বন্ধ ছিল। ফলে হাসপাতাল কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমেনা বেগমের প্রকৃত ঠিকানা পায়নি। সর্বশেষ পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয় এই মোবাইলের মালিক শফিক মিয়া। সেই শফিক মিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন কর্মচারী। এদিকে শফিক মিয়াকে চিহ্নিত করার পর এয়ার পোর্ট থানা পুলিশ আমেনা বেগমকে উদ্ধারে নামে।

একপর্যায়ে শফিক মিয়া জানান, তার মেয়ে এয়ার পোর্ট এলাকার কাকুয়ারপারে নানার বাড়িতে অবস্থান করছে। সাথে কাকুয়াপার এলাকায় গেলে জানাযায় আমেনা কে নিয়ে তার স্বজনরা একটি সিএনজি অটোরিকশা করে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। পরে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আমেনা বেগমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শফিক মিয়া জানায়, তার মেয়ে করোনা আক্রান্ত জানার পর পরিবারের সদস্যদের নানা হয়রানিতে পড়তে হবে ভেবে তারা বিষয়টি গোপন রেখেছেন। তবে মুল রহস্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দিলোয়ার হোসেন আরো জানান, আমেনা বেগম কাকুয়ারপারের নানার বাড়িতে শুক্রবার রাতে অবস্থান করছিলেন। এরজন্য ও বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, কাকুয়ারপার থেকে ঐ মহিলা কে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বাবা মা সাথে আছে তাদেরকে হাসপাতালের সরনাপন্ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে খাদিম নগর ইউনিয়নের রঙ্গিটিলায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরত অন্য এক আমেনা বেগম নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে। পরে দেখা যায় তার শরীরের করোনার কোন অস্তিত্ব নেই।

এনিয়ে পুরো সিলেট জুড়ে তোলপাড় চলছিল। শনিবার আসল আমেনাকে উদ্ধারের মাধ্যমে মুল ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।

  •