সিলেটের চা-বাগানেও করোনার থাবা

33

স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বব্যাপী ত্রাস সৃষ্টি করা করোনাভাইরাস এবার হানা দিয়েছে দেশের চা বাগানেও। শনিবারই সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া চা বাগানের এক শিশু (৫) মারা গেছে। মারা যাওয়া শিশুটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া চা বাগানের শ্রমিকের সন্তান।

এই বাগানের আরও এক শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ। আক্রান্ত ওই শ্রমিক হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান ইউএনও। ইতোমধ্যে চন্ডিছড়া চা বাগানের ১২ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশে ১৬৬টি চা বাগান রয়েছে। এগুলোতে কর্মরত আছেন দুই লক্ষাধিক শ্রমিক। এরমধ্যে ১৩৪ টি বাগানই সিলেট বিভাগে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান। তবে এরমধ্যেই চা বাগানগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাগানের কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার দাবি জানানো হলেও তা আমলেও নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এই ইস্যুতে সিলেটের জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবে একমত হয়ে প্রধানমন্ত্রীও চা বাগানের কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এমন মত সত্ত্বেও মজুরিসহ চা শ্রমিকদের ছুটি প্রদানের দাবি জানানো হচ্ছে। এমন অবস্থায় চা বাগানের দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। যাদের মধ্যে এক শিশু শনিবার মারা যায়।

শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে মারা যায় চন্ডিছড়া চা বাগানের ওই শিশু। ওইদিন বিকেলেই তাকে শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিলো।

তবে চুনারুঘাটের ইউএনও বলছেন, বাগান কাজ করতে গিয়ে নয়, বরং ঢাকায় থাকার ফলেও ওই শিশুসহ দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

ইউএনও সত্যজিত বলেন, মারা যাওয়া শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলো। ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ২০ দিন ঢাকায় ছিলেন। চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দেওয়ায় গত ২০ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা থেকে বাগানে নিয়ে আসেন। ঢাকা থেকে আসার কারণে ওই শিশুসহ তার পরিবারের ৫ সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এবং সন্দেহবশত এই ৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করা হয়। পরীক্ষায় ওই শিশু ও তার এক আত্মীয়ের করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। পজেটিভ ধরা পড়ার পর বাগানের ১২টি বাড়ি লকডাউন করা হয়।

তিনি বলেন, করোনা পজেটিভ ধরা পড়লেও শিশুটি মূলত ক্যান্সারের কারণেই মারা গেছে।

একই কথা জানিয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্রও। তিনি বলেন, পাঁচ বছরের এ শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন অসুখে ভুগছিল। তার চোখমুখ ফোলা ছিলো। এসব কারণেই সে মারা গেছে।

  •