‌ফিরোজা’য় কেমন আছেন খালেদা জিয়া

6

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে মুক্তির একমাস পূর্ণ হলো। দূর্নীতি মামলায় আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গত ২৫ মার্চ ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান। রাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে ওইদিন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকেই গুলশানের নিজ বাসা ‘ফিরোজায়’ ওঠেন ডাক্তারদের পরামর্শে ২৬ মার্চ থেকেই নিজ বাসায় কোয়ারেন্টিনে চলে যান। প্রথম দফায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে এখনও তিনি কোয়ারেন্টিনেই আছেন।

৭৫ বছর বয়স্ক বিএনপি নেত্রী চিকিৎসকের পরামর্শে বাসার দোতলায় একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে না। এমনকি দলের শীর্ষনেতারও তার সাক্ষাৎ পাননি।

বিএনপি নেত্রীর বোন সেলিমা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সহ পরিবারের দু’জন সদস্য, একজন গৃহকর্মী এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছাড়া আর কাউকে মিসেস জিয়ার কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না। গণমাধ্যম ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে দেশবাসীর খোঁজ খবর রাখছেন।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, পারিবারিক পরিবেশে খালেদা জিয়া এখন মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকলেও তাঁর আথ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ জটিল সব রোগের বিষয় বিবেচনা করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহ বিশ্ব পরিস্থিতিতে সতর্কতা হিসেবে তাঁকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে বেগম জিয়াকে দেখতে যান তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। সন্ধ্যায় দেখতে যান মেঝো বোন সেলিমা ইসলাম। আর সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে থাকেন গৃহপরিচারিকা ফাতেমা আর একজন নার্স। বাসায় ফেরার পর নতুন সময়সূচিতে চলছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। নির্দিষ্ট আত্মীয়-স্বজন ছাড়া দেখা করছেন না কারোর সঙ্গে। দলের নেতাদের সঙ্গেও না। বাসায় ফেরার পর নিজের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট সময়সূচিতে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। খাওয়া-দাওয়াও করছেন চিকিৎসকদের পরামর্শে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কোয়ারেন্টিনে থেকেই খালেদা জিয়া রোজা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন । তিনি বলেন, ম্যাডাম এখন কোয়ারেন্টিনেই আছেন। উনি উনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসাধীন আছেন এবং এভাবে কোয়ারেন্টিনে থেকে তিনি রমজানের রোজা পালন করবেন। রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল জানান, লন্ডন থেকে বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব কিছু তত্ত্বাবধান করছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক ডা. এ জেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, তার শারীরিক অসুস্থতাটা আগের মতোই আছে। এটা বিভিন্ন কারণে হচ্ছে। হাত-পায়ের ব্যথা আগের মতোই আছে। আজকে হয়ত একটু ভালো থাকে আবার কালকে প্রচন্ড ব্যাথা থাকে। ব্যাথা উপশমের জন্য থেরাপি দেয়া হচ্ছে। উনার ডায়াবেটিস বেশ অনিয়ন্ত্রিত।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে এখনকার অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না এবং সেজন্য একটা রুটিন চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসা ‘ফিরোজা’র গেইটে পাহারারত নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, বাসায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। শুধুমাত্র চিকিৎসক টিমের সদস্যবৃন্দ ও কয়েকজন নিকট আত্বীয় বাসায় যেতে পারেন।

জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট-এই দু’টি দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রী দুই বছর কারাবাসের শেষ বছরটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

  •