নদী সাঁতরে ভারতে যাওয়া ব্যক্তি ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’

28

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নদী সাঁতরে ভারতের আসামে অনুপ্রবেশ করা বাংলাদেশি যুবক করোনার চিকিৎসার জন্য ভারতে প্রবেশ করেননি। বরং তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চিকিৎসকরা।

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার মামুনপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক (৩৫) রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে কুশিয়ারা নদী সাঁতরে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার মুবারাকপুরে প্রবেশ করেন বলে বিজিবি সূত্রে জানা যায়।

সিলেটের জকিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-১৯ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাঈদ হোসেন বলেন, ‘ভারতে প্রবেশের পরই সেখানকার স্থানীয়রা তাকে আটক করে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর কাছে হস্তান্তর করে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সেদিনই তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।’

এদিকে ওই যুবক জ্বর নিয়ে ভারতে করোনার চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন বলে বিএসএফের ইন্সপেক্টর জেনারেল জেসি নায়েককে উদ্ধৃত করে ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস রবিবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তবে বিএসএফ’র এ বক্তব্যটি ভুল বলে দাবি করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাঈদ হোসেন বলেন, ‘বিএসএফ আমাদেরকে ওই যুবকের ভারতে অনুপ্রবেশ বিষয় জানানোর পর আমরা তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি যে সে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এবং বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ি থেকে পলাতক।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমরা বিএসএফকে অবগত করে তাকে দেশে ফেরত নিয়ে আসি। তারপর তাকে তার গ্রামে ফেরত পাঠানোর আগে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখি।’

যুবকের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার মো মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মামুনপুর গ্রামের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ওই যুবক ও তার ভাই, দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন। তাদের বাবা নেই, বাড়িতে মা আছেন। দুই ভাই কিছুদিন পরপর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। শেষবার সে প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলো।’

জকিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান মো. খলিল উদ্দিন বলেন, ‘জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা ওই যুবককে ফিরিয়ে আনার পর আমরা দায়িত্ব নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই। সে শারীরিকভাবে অসুস্থ না হলেও ভারসাম্যহীন কথাবার্তা বলছিলো।

যুবকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. খালেদ আহমদ বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা না থাকলেও তাকে আমরা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায়ই পেয়েছি। তার কথাবার্তাও ভারসাম্যহীন ছিলো। তাই সে কী কারণে ভারতে যেতে চেয়েছিলো তা সঠিকভাবে বোঝা যায়নি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মেহদী বলেন, ‘তার মধ্যে করোনার কোন লক্ষণ নেই, তবুও যেহেতু সে ভবঘুরেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো, তাই সতর্কতা হিসেবেই আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিলেট পাঠিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একজন প্রতিনিধির দায়িত্বে হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে নিরাপত্তা পোশাক পরিয়ে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখানে তাকে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে দিয়ে দেওয়া হবে।’

  •