করোনাজনিত ট্রমা নিয়ে মার্কিন চিকিৎসকের আত্মহত্যা

25

সবুজ সিলেট ডেস্ক
লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা এক চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। লরনা ব্রিন নামের ওই চিকিৎসকের মা-বাবা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে ট্রমায় ভুগছিলেন তাদের মেয়ে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) নিজের শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে আত্মহত্যা করেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
লরনা ব্রিন

ম্যানহাটনে অবস্থিত নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান অ্যালেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন ৪৯ বছর বয়সী লরনা ব্রিন। ম্যানহাটনের ওই ২০০ শয্যার হাসপাতালে বহু রোগী মারা যান। পরিবারের দাবি, করোনাজনিত পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে হতাশায় ছিলেন লরনা। তার বাবা ফিলিপ ব্রিন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, শেষবার মেয়ের সঙ্গে যখন কথা বলেন তখন তাকে ‘সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন’ লাগছিল। তার মেয়ে তাকে কীভাবে কোভিড-১৯ রোগীরা মারা যাচ্ছে, এমনকী অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর আগেই তাদের মৃত্যু হচ্ছে, এসব বলছিলেন।
অতীতে লরনার কোনও মানসিক অসুস্থতা ছিল না বলেও জানান ফিলিপ। তিনি বলেন, ’সে তার কাজ করার চেষ্টা করেছে, আর এটিই তার জীবন কেড়ে নিয়েছে।’
ফিলিপকে উদ্ধৃত করে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, লরনা নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতাল থেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। প্রায় দেড় সপ্তাহ পর সুস্থ হয়ে আবার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তবে হাসপাতাল থেকে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তার পরিবার তাকে শার্লটসভিলেতে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ২৬ এপ্রিল জরুরি কল পাওয়ার পর লরনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এক বিবৃতিতে নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান অ্যালেন হাসপাতাল ডাঃ লরনা ব্রিনের প্রশংসা করে তাকে একজন ‘বীর’ বলে আখ্যায়িত করেছে। শার্লটসভিল পুলিশ বিভাগও তাকে ‘বীর’ বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, জরুরি বিভাগের মতো সন্মুখ সারিতে নিয়োজিত চিকিৎসকরা করোনা মহামারির মানসিক প্রভাব থেকে মুক্ত নন। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিদিন এসব মানুষ পরিস্থিতিজনিত সর্বেোচ্চ চাপের মধ্যে কাজ করেন। তারমধ্যে করোনা ভাইরাস বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুয়িপমেন্ট (পিপিই) এর মাধ্যমে তারা হয়তো সংক্রমণ এড়াতে পারে, কিন্তু ডা. লরনা ব্রিনের মতো এসব বীররা এ রোগের ভয়াবহতার জায়গা থেকে নিজেদের আবেগ ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন না।’

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা ৫৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মোট প্রাণহানির এক তৃতীয়াংশই নিউ ইয়র্কের।

  •