কুলাউড়ায় করোনা আক্রান্ত পরিবারে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

10

কুলাউড়া প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কাদিপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের একই পরিবারের তিনজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ওই বাড়িটি লকডাউন করে উপজেলা প্রশাসন। এর ফলে পরিবারের কোন সদস্য বাড়ির বাহি‌রে যেতে পারছে না। আবার বাহির থেকে কেউ ভেতরে প্রবেশ করছেন না।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকায় এ নিয়ে নানান কানাঘুষো শুরু হয়। অনেকেই তাদের হেয় প্রতিপন্নের চোখে দেখছেন। এমন মন্তব্য শুনার পর তাদের বাড়ি ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ফলসহ এক সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পরিবারটিকে দিয়ে যান এবং পরিবারটির মনোবল ও সাহস বাড়াতে তিনি তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান।

তিনি ওই পরিবারটির জন্য ফলের ঝুড়ি সাজিয়ে (যেটাতে লেখা আছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার) আর এক সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী (যা‌তে আছে সয়াবিন তেল ২ লিটার, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, পেঁয়াজ ১ কেজি, ১ কেজি ছোলা, ১ কেজি খেজুর, ১ কেজি জিলাপি, ১ কেজি, নিমকি, বাচ্চাদের জন্য চকলেট, সিভিট, ফল মাল্টা, লেবুসহ নগদ তিন হাজার টাকা নিয়ে সেখানে হাজির হন।

এসময় ইউএনও’র সাথে ছিলেন কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ছালাম।

জানা যায়, উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের আক্রান্ত পরিবারের নারী সদস্য (৬০) গত ২২ এপ্রিল বুধবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। তিনি করোনায় আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে তার বাড়ি থেকে আরও ৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় কুলাউড়া স্বাস্থ্য বিভাগ।

এরপর সোমবার রিপোর্ট আসে ওই নারীর স্বামী (৭০) ও নাতনী (১৫) তারাও করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হন। আক্রান্ত হওয়ার খবর চাউর হলে সাথে সাথেই ওই এলাকার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মন্তব্য ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন দিতে থাকেন। এবং তাদের বাড়িসহ আশপাশের বাড়ি লকডাউন করার জন্য অনুরোধ জানান। পরে উপজেলা প্রশাসন করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে তাদের বাড়িসহ আশপাশের ১৩টি বাড়ি লকডাউন করে।

ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় করোনায় আক্রান্ত পরিবারে কিছু ফলমূল, ইফতারি সামগ্রী ও নগদ টাকা প্রদান করি। বর্তমান সময়ে ওই পরিবারকে অবহেলা নয় একটু সহমর্মিতার পরশ ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে সবসময় পাশে থাকবো। প্রয়োজনে আরো ফলমূল ও ইফতারি সামগ্রী প্রদান করা হবে।

  •