দরিদ্রদের ফোনকলে ১৫০ পরিবারে জেলা পুলিশের খাবার

11

সবুজ সিলেট ডেস্ক
করোনা বিপর্যয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সিলেট জেলা পুলিশ। খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তারা প্রতিদিনই ছুটছে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়।

এখানেই শেষ নয়, করোনা পরিস্থিতিতে কোন মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় যেন কষ্ট না করে এজন্য ফোনকলের মাধ্যমে ত্রাণ সেবা কার্যক্রম শুরু করে জেলা পুলিশ। তাদের নির্ধারিত নাম্বারে কল দিলেই পৌঁছে দেয়া হয় প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ফোন কলের মাধ্যমে সিলেট জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নীরবে নিভৃতে যাচাই-বাছাই পূর্বক এমনিভাবে চলছে জেলা পুলিশের মানবিক কাজকর্ম।

আর এ মানবিক কাজের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে আছেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে ফোনকলে পাওয়া ঠিকানায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ। সারাদিনের এ কার্যক্রমে ১৫০টি পরিবারে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয় সিলেট জেলা পুলিশ।

খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ লিটার তেল, চিড়া ১ কেজি, মুড়ি ১ কেজি, ছোলা ১ কেজি এবং গুড়, সাবানসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন- করোনার মহামারিতে সিলেট জেলা পুলিশ প্রথম থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ। বেকার হয়ে পড়া অনেক মধ্যবিত্ত ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে পারে না তাদের জন্য খোলা হয়ে হয়েছে ফোনকলে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম। কোনো মানুষ যেন না খেয়ে থাকে তার জন্য সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল পুলিশ সুপার সিলেটের ফেসবুক পেইজে একটা স্ট্যাটাস এবং একটা হটলাইন নাম্বার দিয়ে ফোনকলের ভিত্তিতে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে খাদ্য সাহায্যের ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের সদস্যরা শুধুমাত্র ফোনকলের ভিত্তিতেই প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে নীরবে নিভৃতে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন

এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম রমজানে প্রত্যেক থানায় ১০০ প্যাকেট করে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন পুলিশ সুপার। প্রাপ্ত ফোনগুলো যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট বা পরিবারের নিকট থানা পুলিশের সদস্যরা কখনো মাথায় করে, কখনো নৌকাযোগে, কখনো মোটরসাইকেল যোগে আবার কখনো পায়ে হেঁটে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।

জেলা পুলিশের এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে পুলিশের এমন মানবিকতা ইতিপূর্বে তারা কখনো দেখেননি উল্লেখ করে এমন মানবিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

  •