দুশ্চিন্তায় শাবি শিক্ষার্থীরা

8

শাবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ ‘টিউশনি’ করে পড়াশোনার খরচ চালান।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার সব কিছু বন্ধ করে জনগণকে ঘরে থাকতে বলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ‘টিউশনি’ পড়ানোও বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর মধ্যে মাত্র দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আবাসন ব্যবস্থা করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। বাকি ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে বাসা ভাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় থাকতে হয়। যাদের অনেকেই ‘টিউশনি’ করে তার পড়ার খরচ চালান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কায় গত ১৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যান। তবে বাড়িতে গেলেও তাদের মেস-ভাড়া গুণতে হচ্ছে। তবে অনেক শিক্ষার্থী এ ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে পারছেন না বলে দাবি করছেন। তাই তারা মেস ও বাসা ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, “বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমরা শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়া নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে একটি মেসের পরিচালক এই মেসে আমরা ৯ জন সদস্য থাকি। ভার্সিটি বন্ধ হওয়ায় আমরা গত মাসের শেষের দিকে সবাই যার যার বাসাই চলে আসি। ফলে আমদের হাত খরচ থেকে শুরু করে মেস খরচ বাবদ আয়ের পথ ‘টিউশন’ বন্ধ হয়ে যায়। আমিসহ অনেকে আছেন যারা টিউশন করিয়ে নিজের পড়ার খরচ চালাতে হয় পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করতে হয়।”

“আমার মেসের কিছু জুনিয়রকে চিনি যাদের কারো বাবা দর্জির কাজ করেন, আবার কারো বাবা দিনমজুরী করে সংসার চালান। বর্তমান সময়ে ওনাদের ইনকাম বন্ধ রয়েছে, আমাকে বললো ভাই কিভাবে টাকা দিব, আমি আসলে কিছু বলতে পারিনি আর। এইদিকে বাড়িওয়ালা ভাড়া চাচ্ছে, আমি বুঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু মানছেন না ওনারা। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে বাসা মালিকদের সাথে কথা বলে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা করলেও ভালো হতো বলে জানান তিনি।”

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি ভাড়া বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করি। প্রাইভেট পড়িয়ে এ খরচ চালাই। এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। সাথে প্রইভেট পড়ানোও বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কীভাবে টাকা জোগাড় করে বাড়ি ভাড়া দেব?”প্রশাসনের কাছে তার দাবি-অন্তত চলতি মাসসহ আগামী মাসের ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা যেন করে। এ অবস্থায় বাসা ভাড়া দেওয়া শুধু কষ্টসাধ্যই নয় অসম্ভবও’ যোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মদিনা মার্কেট এলাকার একজন বাড়িওয়ালার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন ‘বাসা ভাড়া আমার অন্যতম আয়ের উৎস, ভাড়া না পেলে আমি কিভাবে চলব?’

এ মুহূর্তে বাসা ভাড়া দেওয়া কষ্টসাধ্য স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার বলেন, “বাড়ির মালিকরা মানবিক দৃষ্টি থেকে ভাড়া মওকুফের কথা চিন্তা করলে সারা দেশের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে তা দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কি করা যায় শিক্ষার্থীদের জন্য তা নিয়ে আলোচনায় বসবো। দেখি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে পারি কি না।”

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধীনে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়েছিলো প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে এখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ভাড়া দিতে হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারছি না। এ বাসাগুলোর দায়িত্বে বিভিন্ন হল প্রভোস্টরা আছেন তাদের সাথে কথা বল সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

  •