করোনা আতঙ্ক : মৃতদৃহ রেখে পালাচ্ছেন স্বজনরা

20

সবুজ সিলেট ডেস্ক
করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের তাদের মৃত দেহ রেখে পালিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। যার কারণে মৃতদের মরদেহ বাসা-বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকছে। হাসপাতালের মর্গে মরদেহের স্তূপ। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। কখনও কখনও স্বজনেরা সটকে পড়ায় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব মরদেহ দাফন করা হচ্ছে বেওয়ারিশ হিসেবে।

করোনায় মৃতদের দাফনে কাজ করছে তিনটি সংগঠন। এরমধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে দল গঠন করে কাজ করছে রহমতে আলম সমাজ সেবা সংস্থা। রাজধানীর বাসা-বাড়ি ও হাসপাতালের মর্গ থেকে ত্রিশটির বেশি মরদেহ সংগ্রহ করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি।

মরদেহ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এমন করুণ মর্মান্তিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন রহমতে আলম সমাজ সেবা সংস্থা’র স্বেচ্ছাসেবীরা।

স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, বাসা-বাড়িতে বেশিরভাগ মরদেহই পড়ে থাকছে অন্তত দশ-বারো ঘণ্টা। তারপর স্বেচ্ছাসেবীরা গিয়ে উদ্ধার করছেন। হাসপাতালের মর্গ থেকে সংগৃহীত মরদেহের দশা আরও করুণ।

রহমতে আলম সমাজ সেবা সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী জারিফ কবির জানান, একজন ইমাম সাহেব মারা গেছেন তার লাশটা রাত ২.৩০মিনিট থেকে পরের দিন দুপুর ২.৩০মিনিট পযর্ন্ত বিছানাতেই পড়েছিল। পরিবারের সদস্যরা লাশটি ধরতে ভয় পাচ্ছিলো, পরে আমাদের সদস্যরা গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করে।

স্বেচ্ছাসেবী জারিফ আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দুর্বিসহ অবস্থা হিমাগারে জায়গা নেই এবং লাশের দুর্গন্ধের মধ্যে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। কখনও কখনও করোনায় মৃতদেহ ফেলে সটকে পড়ছেন স্বজনেরা। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্যের অভাবে রেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হচ্ছে। রেওয়ারিশ লাশ নিয়ে আগে যারা কাজ করতো এই মূহুর্তে তারা এখন মাঠে নেই তারা কোন কাজ করছে না।

মরদেহ সংগ্রহ থেকে দাফন- প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রোটোকল মেনে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে, জানান রহমতে আলমের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান।

তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের সাস্থ্য নীতি মোতাবেক পিপিই, সানগ্লাস, হ্যান্ড গ্লাভসসহ প্রোটেকশনের জন্য যাযা দরকার সবধরনের ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি লাশ দাফনের পেছনে ১০-১২ হাজার টাকা আমাদের খরচ হচ্ছে তবুও আমরা ব্যক্তিগত উদ্দোগে এটা করে যাচ্ছি।

আগামীতে করোনার প্রকোপ বেড়ে গেলে মৃতদেহ সৎকারের কার্যক্রম ঢাকার বাইরে চালানোরও কথা জানিয়েছে রহমতে আলম সমাজ সেবা সংস্থা।

  •