‘মিয়ানমারে ফের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়াচ্ছে সেনাবাহিনী’

7

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা পুনরায় ঘটাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ নজর প্রার্থনা করে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ওই বিবৃতিতে ইয়াংঘি লি জানিয়েছেন, সংঘর্ষ প্রবণ রাখাইন ও শিন রাজ্যে এখনও যারা বসবাস করছেন তাদের ওপর নজিরবিহীন অত্যাচার চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি যেনো আবার তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এবার ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে।

এর আগে, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে চালানো সেনা আগ্রাসনের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সে সময় সেনা আগ্রাসনের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আইসিজে রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার প্রতিহত করা এবং অবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করানোর দায়িত্ব দিয়েছে মিয়ানমারের সরকারকে।

এদিকে, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের মুখে জাতিসংঘ মহাসচিবের অস্ত্রবিরতির আহ্বান না মেনে প্রতিনিয়ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মি সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। তাতে অনেক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এবং গুরুতর আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে বাধা সৃষ্টি করছে সেনাবাহিনী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তম্বদু, বুচিদং পৌর এলাকায় জাতিসংঘের কর্মী, নারী, শিশুসহ কয়েক ডজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও, রাতের আধারে সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে ঘুমিয়ে থাকা অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। সকালে সেনাবাহিনী বা আরাকান আর্মির কেউই ওইসব হামলার দায় স্বীকার করছে না।

এমতাবস্থায়, মিয়ানমারের রাখাইন ও শিন রাজ্যে চলমান যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের ব্যাপারে ব্যাপক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন ইয়াংঘি লি। এছাড়াও ওই অঞ্চলগুলোতে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

  •