করোনা হানার আগাম বার্তা ছিল, একাধিক গোয়েন্দা সতর্কতা অগ্রাহ্য করেন ট্রাম্প

9

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

একাধিকবার গোয়েন্দা রিপোর্ট এসেছিল। জানানো হয়েছিল মহামারীর মুখে পড়তে চলেছে গোটা দেশ। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা গ্রাহ্য করেননি।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক রিপোর্ট জানাচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস ধরে বেশ কয়েকটি গোপন গোয়েন্দা সূত্র এসেছিল, যা জানিয়েছিল যে করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার নিতে চলেছে। এমনকি একথা খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেও পৌঁছয় বলে খবর।
জানা গিয়েছে প্রায় ১২টি গোপন তথ্য এসে পৌঁছেছিল। তবে সেগুলির সবকটিকেই অগ্রাহ্য করা হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, এই অবহেলাই মৃত্যুদূত হয়ে দেখা দিল আমেরিকায়। জানুয়ারির একদম প্রথম সপ্তাহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কিত সতর্কতা এসে পৌঁছয়। ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রতিদিনের সংবাদের সারাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ সেই সারাংশে আমল দেন না ট্রাম্প।
গোটা সপ্তাহে দু-তিন বার মৌখিক ভাবে ব্রিফিং শোনেন তিনি। ফলে নজর এড়িয়ে গিয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা রিপোর্টগুলি। সতর্ক হতে পারেনি আমেরিকা। তাই এই মৃত্যুমিছিল। করোনা সংক্রমণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়ার পর জানুয়ারির শেষে পদক্ষেপ করা হয়। তখনই চিন থেকে সেদেশে যাওয়া বা আমেরিকা থেকে চিনে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা টানা হয়। তখনও ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি গোটা বিষয়টিকে।
মৃত্যুর হার বাড়তে থাকলে টনক নড়ে কর্তাদের। শুরু হয় সোশ্যাল ডিসট্যান্স সম্পর্কে সচেতন করার কাজ। কিন্তু ততক্ষণে বেশ দেরি করে ফেলেছেন তাঁরা। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি প্রেসিডেন্টের উদাসীনতার জন্যই আজ আমেরিকায় এত প্রাণের বলি। এদিকে, শেষ ২৪ ঘন্টায় আমেরিকায় ফের মৃত্যু হল ১৩০৩ জনের। যার জেরে আমেরিকায় মোট মৃত্যু হল ৫৬ হাজার ১৪৪ জনের।
বিশ্বের মধ্যে করোনায় মৃত্যুতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মার্কিন মুলুকই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মধ্যে নিউ ইয়র্কের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ৩০৩ জনের। এরপরেই রয়েছে নিউজার্সি। সেখানে আক্রান্ত ১লক্ষ ১১ হাজার মানুষ।
সেখানে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজারের অধিক। সোমবারের তথ্য অনুযায়ী এই শহর ভিত্তিক রিপোর্ট সামনে এসেছে। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ট্রাম্পের দেশে ১০ লক্ষের বেশি আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৩ হাজারের কিছু বেশি। লিনিওস ও ক্যালিফোর্নিয়াতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ।
লিনিওসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৯৮৩ ও ক্যালিফোর্নিয়াতে সংখ্যাটা ১ হাজার ৭৫৫ জন। মিচিগানে ৩৮ হাজার আক্রান্ত হলেও সেখানে অন্য রাজ্যের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি। ওই রাজ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪০৭ জনের।
সূত্র: কলকাতা24

  •