বিশ্বনাথে ঢাকা ফেরত কাভার্ড ভ্যানে পণ্যের বদলে মানুষ!

14

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারাদেশ লকডাউন। জরুরী পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেও কিছু মানুষ কভাট ভ্যানে করে যাতায়াত করছে জরুরি সেবার পরিবহনগুলোতে। বেশিরভাগ দূরপাল্লার রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে জরুরি প্রয়োজনে চলা কভাট ভ্যানে করে পণ্যের বদলে মানুষদের বহন করছে। এদেরমত কিছু মানুষ সমস্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।

৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ভোর ৬টার সময় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পুরানগাওঁ গ্রামের গাছতলা নামক এলাকায়, রফিকুল ইসলাম মালিকানাধিন মেসার্স রুপা এন্টার প্রাইজ নামক জরুরী কাজে নিয়োজিত ঢাকা মেট্রো ড ১৪-৬০২৪ এলাকাবসী আটক করেন। থানা পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে কভাট ভ্যানটিকে জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। স্হানীয় সূত্রে জানা যায়,এ কভাট ভ্যানে চেপে আসা দুটি পরিবারের লোক ১৮ জন লোকদের নামতে দেখাছেন তারা। এর মধ্যে তিন আটজন নারী, তিনজন পুরুষ, দুইজন শিশু ছিলেন। বাকিদের তারা বুঝতে পারেননি চাদরে ঢাকা ছিল মুখ।

এলাকেবাসী জানান, গত কয়েকবছর আগে ঢাকা নায়ানগঞ্জে পুরানগাওঁ গ্রামের জহুরার দুই মেয়ের বিয়া হয়। সে সূত্রধরে একই পরিবারে ৭জন সহ বাকিরা চাকরী সূত্রে সেখানে বসবাস করে আসছে। যখনই ঢাকাতে করোনা মহামারি আঁকার ধারন করে এবং হঠাৎ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় তারা সবাই গ্রামে আসার চেষ্টা করেন। বুধবার তারা কভাট ভ্যান ভাড়া করে ঢাকা নারায়গঞ্জ থেকে রামপাশা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড পুরানগাওঁ গ্রামে ফিরেন।

এবিষয়ে স্হানীয় ইউপি সদস্য শামীম আহমদের মোবাইলে বারবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পুরানগাওঁ গ্রামের মুরব্বি সাবেক মেম্বার: জয়নাল আবেদীন কুদ্দুস বলেন, ঢাকা থেকে এলাকায় আসা মানুষগুলো এলাকায় ঝুকি বাড়াতে পারে। সে কারণে তাদের এখনই ঘরে বদ্ধ করতে হবে। তাদের হোম কোয়ারেন্টানে রাখতে না পারলে সংকট বাড়তে পারে বলে আমরা গ্রামবাসী মনে করছি।যেহেতু করোনা আতংকে সারা বাংলাদেশ, সেহেতু করোনা ছড়ানো কোন বিষয় নয়। এর আগে স্হানীয় এলাকাবাসী অনেকেই বলেন, ভোরে হঠাৎ করে এলাকায় কভাট ভ্যানটি আসলে প্রথমে আছ করতে না পারলেও, পরে এতো লোক দেখে সন্দেহ হলে আমরা কভাট ভ্যানটিকে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেই।

বিশ্বনাথ থানার এসআই দেবাশীষ শর্মা বলেন, কভাট ভ্যানটি আপাতত আমাদের হেফাজতে আছে, যেহেতু গাড়ীতে অর্বৈধ কিছু পাওয়া যায়নি, আটক করার প্রশ্নই আসে না। একটা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।

  •