নিউ ইয়র্কের মুদি দোকানে করোনা পরীক্ষা

11

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর যুক্তরাষ্ট্রেও নিউ ইয়র্ক সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। দ্রুত ও ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে এই রাজ্যের সরকার। এতদিন নির্ধারিত হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা হতো। এরপর রাজ্যের পাঁচ হাজার ফার্মেসিতে করোনার পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এবার নিউ ইয়র্কের গ্রোসারিতে (মুদি দোকান) করোনার পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো অনেকটা গোপনে করোনা প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু গ্রোসারিতে লোক নিয়োগের কাজ শুরু করেছেন।

নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে রাজ্যজুড়ে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি রাজ্যের পাঁচ হাজার ফার্মেসির পর এবার গ্রোসারি স্টোরে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখতে চান। এ নিয়ে কিছু স্টোরে কাজও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য লোকও নিয়োগ চলছে গ্রোসারি স্টোরগুলোতে।

নিউ ইয়র্কের ফটেলে ফুড করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট রুডি ফুয়ের্তেস বলেন, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিন বেশ কিছু ফাইন ফেয়ার সুপারমার্কেট রয়েছে। এসব সুপারমার্কেটে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ পরীক্ষা করানো সম্ভব। সুপারমার্কেটের স্টোরগুলোতে দিনে অন্তত দুই শ অ্যান্টিবডিও পরীক্ষা করানো সম্ভব। যদিও এখনো গভর্নর অফিস থেকে ঘোষণা আসেনি, তারপরও কিছু স্টোরে ইতিমধ্যে কাজ শুরুও হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে প্রথমবারের মতো হাসপাতালে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা শুরু হয়। শুরুতে প্রথম সারিতে থাকা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালে থাকা রোগীদের এই পরীক্ষা করানো হয়। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জরুরি ভিত্তিতে তা আরও কিছু ক্লিনিকে করানোর অনুমতি দেওয়া হয়। পরে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো গত ২৫ এপ্রিল ফার্মেসিতে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি জানান।

কুমো বলেন, রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার ফার্মেসির করোনার পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে। তারাও যদি পরীক্ষা শুরু করে, তাহলে প্রতিদিন ৪০ হাজার পরীক্ষা চালানো যাবে।

পরে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব ধরনের মানুষের পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। যারা দোকানে বা সুপারমার্কেটে কাজ করেন তারা যেন সেখানেই নিজের পরীক্ষা করাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করার উদ্যোগে নেয়। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরা দোকান বা রাজ্যের বেশ কিছু সুপারমার্কেটের ভেতরে সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সেখানে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করানো শুরু হয়েছে। নমুনা দেওয়া ব্যক্তিদের ইমেইল বা ফোন করে পরীক্ষার ফল জানানো হচ্ছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, গভর্নর রাজ্যজুড়ে করোনার পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। এ কারণেই সুপারমার্কেটে এই করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে তিন হাজার সাধারণ মানুষসহ অন্তত আট হাজার ব্যক্তির এই পরীক্ষা করানো হয়েছে।

রুডি ফুয়ের্তেস বলেন, এভাবে পরীক্ষা করালে সুপারমার্কেটের ৩০ শতাংশ কর্মীর করোনা পজিটিভ আসবে। কারণ, তার সব স্টোরের প্রায় শতভাগ ব্যবস্থাপকের করোনা পজিটিভ রয়েছে।

রুডি ফুয়ের্তেস বলেন, এভাবে বিস্তৃত পরিসরে করোনার পরীক্ষা আমাদের কমিউনিটিকে আশাবাদী করে তুলবে। সূত্র: প্রথম আলো।

  •