আমেরিকায় গত ২৪ ঘন্টায় ৪ জন বাংলাদেশী সহ ৪৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ২২৯ বাংলাদেশী প্রাণ হারালেন।

20

কামরুজ্জামান হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র:

গত ২৪ ঘন্টায় আমেরিকায় আরও ৪ জন বাংলাদেশী করোনায় মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে আমেরিকায় করোনায় সর্বমোট ২২৯ জন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমেরিকায় করোনায় আক্রান্ত প্রায় ১১ লাখ ৬১ হাজার এবং মারা গিয়েছেন প্রায় ৬৮ হাজার। নিউইয়র্ক স্টেটে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার এবং মারা গিয়েছেন প্রায় ২৪ হাজার। নিউইয়র্ক সিটিতে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ২৯৯ জন। ইতিমধ্যেই আমেরিকায় বেশ কয়েকটি স্টেট খুলে দেয়া হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৪২ স্টেট খুলে দেয়া হচ্ছে। এ কে এম ফজলুল হক এবং তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্ত্রী হোম কোয়ারেনটাইনে থেকে ডাক্তার মেয়ে (বাংলাদেশে ডাক্তারি পাশ করা) ফারহানা হকের পরামর্শে সুস্থ হয়ে ওঠেন কিন্তু ফজলুল হক সুস্থ হতে পারেননি। তিনি এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জন জানান, এ কে এম ফজলুল হক ছিলেন প্রবাসের অন্যতম সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সাবেক উপদেষ্টা এবং আড়াইহাজার সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ডিভিতে আমেরিকায় এসেছিলেন। প্রথম দিকে ইয়েলো ট্যাক্সি চালাতেন। পরে অবশ্য উবার চালাতেন। জনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে ফজলুল হক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রায় এক মাসের মত বাসায় ছিলেন। ডাক্তার এবং মেয়ে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এক মাস পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে জ্যামাইকার বাসা থেকে ফ্লাশিং প্রেস ব্যাটারিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ দিকে মেয়ের চিকিৎসায় মা সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে পারলেন না ফজলুল হক। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ মে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ কন্যাসহ আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। এ কে এম ফজলুল হককে ৩ মে সকালে বাংলাদেশ সোসাইটির নিউজার্সির কবরস্থানে দাফন করা হবে। ফজলুল হকের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ সমিতি এবং আড়াইহাজার সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। নিউজার্সিতে বসবাসকারী আব্দুল কাদের মাখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউজার্সির একটি হাসপাতালে গত ১ মে ইন্তেকাল করেন। নিউইয়র্কে বসবাসকারী রথীন্দ্র নাথ কুমার করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১ মে লংআইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে বিকেল ৪টায় পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৫ বছর। তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে নিউইয়র্কে থাকতেন। জানা গেছে, তার দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নবাবগঞ্জে। নিউইয়র্ক প্রবাসী রিপন মোল্লা করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১ মে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।