সিলেটে কারও কথাই শোনেন না ব্যাংকের গ্রাহকরা

67

স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হলেও তা মানছে না যেন কেউ।

সিলেটের ব্যাংক ও শপগুলোতে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে কাজ সারছে মানুষ। আবার এদের অনেকের মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস নেই। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও যেন এখানে নিরুপায়। ফলে সিলেটে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট নগরের জিন্দাবাজার, বারুতখানা, বন্দরবাজার, কাজিরবাজার ও আম্বরখানা এলাকায় নির্দিষ্ট দূরত্বে লাইনে না দাঁড়িয়ে গা-ঘেঁষে গাদাগাদি করে ব্যাংকে ঢুকে লেনদেন করছেন মানুষ। শুধু ব্যাংক নয়, মাছ বাজার ও শপগুলোতে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

তবে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী ব্যাংক ও শপের কর্মকর্তারা বলছেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করছি তিন ফিট দূরে দাঁড়াতে। কিন্তু কিছুক্ষণ দেখা যায় দূরে থাকতে পরে আবার এসে ভিড় লেগে যায়। ফলে পণ্য দিতেও দেরি হয়। পাশাপাশি আমরা সবাই-ই করোনা ঝুঁকিতে আছি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন করা হয়েছে সিলেটসহ সারা দেশ। তবে জরুরি সেবার আওতায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট নগরের কয়েকটি শাখায় চলছে সীমিত আকারে লেনদেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সাধারণ ছুটির মধ্যেও ব্যাংকে রয়েছে গ্রাহকের ব্যাপক ভিড়। বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও মেনে চলতে হবে তিন ফুট দূরত্ব- এমন নির্দেশনা থাকার পরও মানছেন না তারা।

রোববার দুপুরে নগরের পূর্ব জিন্দাবাজার বারুতখানা পয়েন্টের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দেখা গেছে মানুষের দীর্ঘলাইন। একজন আরেকজনের সঙ্গে গা-ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন। কথা বলে জানা গেল সকাল থেকে টাকা তুলতে মানুষের ঢল নেমেছে এই ব্যাংকে। এভাবে সামাজিক দূরত্ব না মেনেই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাংকে লেনদেন করতে ভিড় করেছেন গ্রাহকরা।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়লেও ব্যাংকে কমেনি সাধারণ মানুষের ভিড়। লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংকে লেনদেন বেড়েছে ব্যাপকহারে। ফলে সাধারণ ছুটির মধ্যেও সীমিত আকারের ব্যাংকিং লেনদেনে গ্রাহকদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। তবে ব্যাংকের বাইরে দীর্ঘলাইন থাকলেও ভেতরে নির্দিষ্ট দূরুত্ব মেনে লেনদেন করা হয়।

ব্যাংকগুলোতে মানুষের ভিড় লেগেছে এমন খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা। তিনি নিজে গিয়েও মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হিমশিম খেয়েছেন।

ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, মানুষ এখনও বিষয়টি বুঝতে পারছে না যে; সামাজিক দূরত্ব না মানলে নিজেদের কতটা ক্ষতি হবে। আমি নিজে মানুষদের বুঝিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেছি। আমরা সবসময় নগরে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য মাইকিংসহ প্রচারপত্র বিলি করছি। তারপরও মানুষ তা মানতে চাচ্ছে না। এখন থেকে সামাজিক দূরত্ব না মানলে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংক সিলেট প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন তারেক বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লেনদেন করছি। তবে বেশিরভাগ গ্রাহক তা মানতে চান না। আমরা গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছি; যাতে ভিড় না হয়। কিন্তু ব্যাংকের সময় কম থাকায় গ্রাহকদের চাপ বেড়েছে।

  •