করোনা ভাইরাস : ঝুঁকি সত্ত্বেও ‘আশার আলো’দেখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

23

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল করোনা মহামারী থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে এসব স্থানে স্বাভাবিক জীবন ফিরছে। কিন্তু টিকা আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত ভাইরাসটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে যাবে।- খবর রয়টার্স
রোববার সংস্থাটির জরুরি বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বহু দেশ এখনো ব্যাপক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। আবার অন্যরা দেখাতে শুরু করেছেন যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এসব বিবেচনায় নিয়ে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন এই বিশেষজ্ঞ। জেনেভা থেকে অনলাইনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কর্মসূচির এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিস্থিতি খুবই, খুবই মারাত্মক। কিন্তু এখন বিশ্বের বিভিন্ন অংশে রোগের ধরন ও গতিপথ আলাদা।
‘আমরা যা শিখছি, তা হচ্ছে, এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনও শুরু করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, তবে সেটা করতে হবে একেবারে নতুনভাবে কড়া সতর্কতা ও নজরদারির মধ্য দিয়ে। রায়ান জানান, আফ্রিকা, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। যদিও তা এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংকট হিসেবে দেখা দেয়নি। তবে করোনা পরীক্ষার সহজলভ্যতা এখনো একটি ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। রোববারে রয়টার্সের হিসাব বলছে, বিশ্বব্যাপী ৩৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষ এ পর্যন্ত করোনা মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার ১৫ জন।
গত বছরের শেষ দিনে চীনের উহানে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বের ২১০টি দেশ অঞ্চলে তা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই বিশেষজ্ঞ বলেন, জীবনের লড়াইয়ের মধ্যখানে রয়েছি আমরা— বিশ্বজুড়ে সবাই। একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত অর্থাৎ যতক্ষণ না সবার জন্য নিরাপদ ও কার্যকর টিকা সহজলভ্য হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিস্তৃত ও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। রায়ানের ভাষ্য, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতে পেরেছে।
‘ইতিমধ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা ভয়াবহ মহামারী থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। কাজেই গত কয়েক মাস ধরে চলা অর্থনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে তারা।’
কয়েক মাসের কঠোর লকডাউনের পর ইতালি ও স্পেনের লোকজন রোববার থেকে কিছুটা স্বাধীনতা উপভোগ করতে যাচ্ছেন। ইসরাইল বেশ কিছু স্কুল খুলে দিয়েছে। আর দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, ৬ মে থেকে তারা সামাজিক দূরত্ব আরও শিথিল করে দেবে। আর পর্যায়ক্রমে ব্যবসাও সচল করে দিতে যাচ্ছে দেশটি।
রায়ান বলেন, এসব ঘটনা বলছে না যে ভাইরাসটি সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু আমরা একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবো, যেখানে করোনাকে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন ফের শুরু করতে পারবো। কোনো সরকার যদি বিধিনিষেধ শিথিল করতে চায়, তবে তা যেন চরম সতর্কতার সঙ্গে করা হয় বলে তিনি জানান।