সিলেটে এক মাসে আক্রান্ত ২৪৫, সুস্থ হয়েছেন মাত্র ১ জন

11

 


স্টাফ রিপোর্টার
গত ৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার একমাস পেরিয়েছে ৪ মে (সোমবার)। এই একমাসে সিলেট বিভাগে মোট শনাক্ত হয়েছেন ২৪৫ জন রোগী। এরমধ্যে মারা গেছেন ৪জন। আর সুস্থ হয়েছেন মাত্র ১ জন।

গত একমাসে সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকও রয়েছেন।

বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন।

এছাড়া বিভাগের অন্য তিন জেলা সিলেট ৩৬ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫ জন ও মৌলভীবাজারে ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ঢাকার ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া বাকী ৭৯ জন কে কোন জেলার তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে সিলেট বিভাগে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরমধ্যে ৪০ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। যার মধ্যে ১১ জন চিকিৎসক, সেবিকা (নার্স) ৮ জন ও হাসপাতালের স্টাফ রয়েছেন ২২ জন।

সিলেটে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চললেও সুস্থ হওয়ার হার একেবারেই কম। এখন পর্যন্ত পুরো বিভাগের মধ্যে কেবল সুনামগঞ্জের এক নারী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর কেউ এখন পর্যন্ত সুস্থ হননি।

এছাড়া এই একমাসে সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসের কারণে চারটি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যার মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও লাখাই এবং সুনামগঞ্জে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল। এগুলোতে অবশ্য সোমবার থেকে সীমিত আকারে স্বাস্থ্য সেবা শুরু করা হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। আর সিলেটে ৫ এপ্রিল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. মঈনউদ্দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। ১৫ এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর মারা গেছেন আরও ৩ রোগী।

৭ এপ্রিল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। মূলত এরপর থেকেই বিভাগে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা।

আর নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালকে করোনাভাইরাস আইসোলেশন সেন্টার ঘোষণা করে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এই হাসপাতালে বর্তমানে ১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ড. আনিসুর রহমান বলেন, সিলেটে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে এটি কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই সতর্ক না হলে সামনে বিপদ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই উন্নতির দিকে। অচীরেই তাদের কয়েকজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

  •