ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে আরো ২ জন করোনা রোগী শনাক্ত

8

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের ওসমানীনগরে এবার নতুন করে এক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকা ফেরত তুরন মিয়া (২৪)। তিনি ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রাহ্মণগ্রামের আব্দুল জহুর ছেলে।

আরো জানা যায়, বর্তমানে তিনি একই এলাকার পশ্চিম ব্রাহ্মণ গ্রামের বুলবুল মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এই নিয়ে ওসমানীনগরে ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হলো।

এদিকে বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাবরকপুর গ্রামে আক্রান্ত হন এক যুবক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বালাগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ।

আজ মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত করোনা সনাক্তকরণ ল্যাব থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম শাহরিয়ারকে ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের ২তরুণের করোনা পজিটিভ।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে খবর নিশ্চিত হবার পর আজ (৫এপ্রিল) মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: তাহমিনা আক্তারসহ প্রশাসনের লোকজন করোনা আক্রান্ত তরুণের বাড়িসহ আশপাশের ৫টি বাড়ি লকডাউন করেছেন। আক্রান্ত তরুণকে বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। রোগীর বাড়ির লোকজন সহ আশপাশের বাড়ির লোকদের ঘর থেকে বের না হতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও আক্রান্ত তরুণের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউপির পশ্চিম ব্রাহ্মণ গ্রামের ঢাকা ফেরত এই তরুণ গত ২১ এপ্রিল পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউপির কাজীপুর গ্রামে তার এক আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ দিনই সেই এলাকার তিন তরুণ সহ আক্রান্ত তরুণ বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা প্রদান করে। এ সময় গোয়ালাবাজারের এই তরুণ তার ঠিকানা লেখায় বালাগঞ্জ কাজীপুর গ্রামের। এরপর গোয়ালাবাজারের এই তরুণ বালাগঞ্জ থেকে বাড়িতে ফিরে আসে।

ওসমানীনগর উপজেলা করোনা সংক্রান্ত মেডিকেল টিমের প্রধান ড. সাকিব আব্দুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তবে তার পাশের দুই ঘরের বৃদ্ধ সহ ৮/৯জন মানুষ রয়েছেন তাদের সকলের নমুনা আগামীকাল বুধবার নেয়া হবে। আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে রোগীকে ঔষধ প্রদান করেছি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তর বলেন, আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি সহ আশপাশের আরো ৪টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। রোগীকে হোম কোয়ারেইন্টাইনে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোগীর পরিবারে খাবার দেয়া হবে। মেডিকেল টিম রোগী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ৩০ এপ্রিল ওসমানীণগরের দয়ামীর ইুইনয়নের রাইগদাড়া গ্রামে ও ১ মে বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামে এক ব্যক্তি প্রথম করোনা শনাক্ত করা হয়।

  •