নিয়ম মানলে বকশিস ১০ টাকা

6
র‍্যাব কমান্ডার রিকশাচালকদের বকশিস দিচ্ছেন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আগামী ১০মে থেকে সীমিত পরিসরে দোকানপাট চালুর সিদ্ধান্তের পর মৌলভীবাজারে বেড়েছে যানবাহনের চলাচল। সামাজিক দূরত্ব না মেনে বেশিরভাগ রিকশা, মোটরসাইকেলে ছিলো একাধিক যাত্রী। অনিয়মে চলা লোকজনকে নিয়ম মানাতে অভিনব কৌশল নিয়েছেন র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সদস্যরা। যেসব রিকশাচালক নির্দেশনা মেনে চলছেন তাদেরকে ১০ টাকা করে বকশিস দিচ্ছেন তারা।

র‌্যাব ৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (৫ মে) দিনব্যাপী মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তৎপর ছিলেন র‌্যাব সদস্যরা।

যেসব ছোট যানবাহনে একাধিক যাত্রী পাওয়া গেছে, তাদেরকে তাৎক্ষণিক নামিয়ে দিয়ে খালি রিকশা বা ইজি বাইকে তুলে দিয়েছেন র‌্যাব সদস্যরা। সরকারি নির্দেশনা মান্যকারী রিকশাচালকদেরকে ১০ টাকা করে বকশিসও দিয়েছেন তারা। এসময় একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রিকশা বের না করতেও অনুরোধ জানান তারা। রিকশাচালকেরা খুশি মনেই শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বকশিস নিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শ্রীমঙ্গল চৌমুনায় গিয়ে দেখা যায়, সারি বেঁধে চলাচল করছে যানবাহন। বেশিরভাগই রিকশা ও মোটরসাইকেল। যে যানবাহনেই সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন করছে তাদেরকেই থামাচ্ছিলেন র‍্যাব সদস্যরা। বাবা ও ছেলে এক মোটরসাইকেলে চড়ে বাজার থেকে ফিরছিলেন। চৌমুহনা মোড়ে পৌঁছামাত্র র‍্যাব সদস্যরা তাদের থামান। অনুরোধে কাজ না হওয়ায় তারা ছেলেকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে খালি রিকশা ডেকে তাতে তুলে দেয়। সঙ্গে রিকশাওয়ালার হাতে ধরিয়ে দেয় ১০ টাকা বকশিস। সারাদিনে এভাবে শতাধিক রিকশা চালককে বকশিস দেওয়া হয়েছে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে র‌্যাব ৯ এর এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ‘আগামী ১০ মে থেকে সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরুর সিদ্ধান্তের পর রিকশায় একাধিক যাত্রী বহনকে আমি সামাজিক দূরত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। তাই রিকশাচালক ভাইদের একের অধিক যাত্রী না নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করতে আমরা তাদেরকে সামান্য বকশিস দিয়েছি। এছাড়াও ছোট বাহন যেমন মোটরসাইকেল বা রিকশায় একাধিক যাত্রী দেখা গেলে আমরা একজনকে রেখে বাকিদের নেমে যেতে অনুরোধ করেছি।’

এই টাকা সরকারি খাত থেকে খরচ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগ। তাই খরচটিও করছি নিজের পকেট থেকেই। আমি আসলে ছোটখাটো আভিযানিক খরচের ক্ষেত্রে সরকারি টাকার দিকে তাকিয়ে থাকার পক্ষে নই। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, এরকম হলে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করাটা কঠিন হয়ে পড়ে।’

  •