কয়েদি করোনা পজিটিভ, ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক
পঞ্চগড় জেলা কারাগারের এক কয়েদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় কারাগারের একটি ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া চার কারারক্ষী, জেলা পুলিশের দুই জন সদস্য, পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের একজন নার্স, একজন ওয়ার্ডবয়সহ ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) কারাগারের ৫৫ জনের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সার্জন অফিস বিষয়টি গোপন রাখে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খবরটি জানাজানি হলে কারা কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সার্জন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন মো. ফজলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পঞ্চগড় জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ওই কয়েদি অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। ১ মে রাতে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরে রাতেই তাকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে পুলিশি পাহারায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভতির পর ৩ মে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে পাঠান চিকিৎসকেরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই কয়েদির নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ ফলাফল আসে।
পঞ্চগড় জেলা কারাগার

পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার মো. শফিকুল আলম জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার গড়েয়া নারায়ণপুর গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ চন্দ্র রায়ের ছেলে বাবুল চন্দ্র রায় নামে এক কয়েদিকে গত ১ মে পঞ্চগড় থেকে রংপুরে স্থানান্তর করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই কয়েদি গত বছরের ১৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও কারাগার থেকে পঞ্চগড় কারাগারে আসেন। চলতি বছরের ১ মার্চ ঠাকুরগাঁও কারাগারে যান আবার ৪ মার্চ পঞ্চগড় কারাগারে ফিরে আসেন। গত ১ মে ওই কয়েদির অ্যাজমা সমস্যা দেখা দিলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধানে ওই কয়েদির করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) পরীক্ষার ফলাফলে সে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতে ওই কয়েদির শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার খবর পেয়ে ওই কয়েদি যে ওয়ার্ডে ছিলেন, সেটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে থাকা ৫২ জন কয়েদির বিশেষ নজরদারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই কয়েদিকে হাসপাতাল নেওয়া থেকে শুরু করে তাঁর সংস্পর্শে আসা চারজন কারারক্ষীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে ২২৯ জন বন্দি রয়েছেন।

পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, ১ মে রাতে ওই কয়েদিকে মূলত অ্যাজমা রোগী হিসেবেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে পিপিই পরেই চিকিৎসা দিয়েছিলেন। পরে তিনি কিছুক্ষণ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে ওই রাতে মেডিসিন ওয়ার্ডটি প্রায় ফাঁকা ছিল। রংপুর মেডিক্যালে পাঠানোর পর তার করোনা পজিটিভ জানতে পেরে জরুরি বিভাগ ও মেডিসিন ওয়ার্ডটি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত একজন নার্স ও একজন ওয়ার্ডবয়কে হোম কোয়ারেন্টিনের রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ অন্য একজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ওই বন্দিকে কারাগার থেকে হাসপাতালে আনা এবং চিকিৎসাব্যবস্থায় সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘১ মে রাতে একজন বন্দিকে রংপুর মেডিক্যালে পাঠানো হবে বলে আমাদের জানানো হয়। পরে আমরা দুজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে দেই। তারা পিপিই পরে রোগীর সঙ্গে গেলেও ওই রোগী করোনা পজিটিভ হওয়ায় তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।’

  •