ওসমানীর ১৫ চিকিৎসক ‘দুই দিনে’ কিভাবে ‘করোনামুক্ত’ হলেন?

25

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৫ ইন্টার্ন চিকিৎসক দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, গত সোমবার (৪ মে) ওসমানী হাসপাতালের ১৬ ইন্টার্ন চিকিৎসক করোনা পজিটিভ বলে ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে। এর মধ্যে ১৫ জন মেয়ে, একজন ছেলে।

এরপর দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ওই ১৫ জন মেয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসককে করোনা নেগেটিভ তথা করোনামুক্ত বলে ফলাফলে দেখানো হয়।

করোনা পজিটিভ ঘোষণার মাত্র দুই দিন পরই তারা কিভাবে করোনা নেগেটিভ হয়ে গেলেন? এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মধ্যেই।

এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, আসলে তারা দুই দিনের মধ্যে করোনামুক্ত হয়ে যাননি। তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য কয়েকদিন আগেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফলাফল আসতে দেরি হয়েছে। প্রথম দফায় নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষার মধ্যে পেরিয়ে গেছে ১৪ দিন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘এই ১৫ চিকিৎসক দুই দিনের মধ্যে করোনা নেগেটিভ হয়েছেন, বিষয়টা আসলে সেরকম নয়। ২৪ এপ্রিল তাদের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ওসমানীর ল্যাবে নমুনার চাপ থাকায় ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরীক্ষা শেষে ফলাফল আসতে দেরি হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ৪ মে তাদের ফলাফল পজেটিভ বলে জানতে পারি। এর আগেই কিন্তু বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় দফায় তাদের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে ফলাফল আসে নেগেটিভ।’

আরেকবার নমুনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ এলে এসব ইন্টার্ন চিকিৎসককে পুরোপুরি করোনামুক্ত বলে ছাড়পত্র দেওয়া হবে, এমনটাই জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কোয়ারেন্টিনকালীন এসব ইন্টার্ন চিকিৎসককে পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

এদিকে, ওসমানীর আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক (১৬ জনের একজন) বর্তমানে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় তার নমুনা পরীক্ষা এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মেহেদি হাসান গাজীপুরস্থ নিজ বাড়ি বাড়ি থেকে এসে হাসপাতালে কাজে যোগ দেন। তিনি হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলে থাকেন। তার করোনা পরীক্ষা করানো হলে তিনি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। এরপর তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে তিনি গত পরশুদিন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

মেহেদি হাসান আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলের ৭৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরে তাদের নমুনা পরীক্ষায় ওই ১৬ জন পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন।

  •