করোনায় মৃত নারীর লাশ নেননি স্বজনেরা

21

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা হাসপাতালে (করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বজনেরা ওই নারীর লাশ নিতে না আসায় স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তায় সিটি করপোরেশন লাশ দাফন করে। ওই নারী শহরের চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গৌতম রায়  বলেন, চার দিন আগে ওই নারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার রাতে মৃত্যু হয়। স্বজনেরা না আসায় স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে হস্তান্তর করলে তাঁরা লাশ দাফন করেন।

এ বিষয়ে ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত ওই নারীর মৃত্যু হলে স্বজনেরা তাঁর লাশ ফেলে চলে যান। আজ রোববার বিকেলে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তাঁরা কেউ লাশ নিতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে জানানো হলে তিনি লাশ বহনের গাড়ি ও কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। আমি স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রহণ করে দাফনের জন্য হস্তান্তর করেছি।’

এ বিষয়ে সিটি মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হোসেন বলেন, ওই নারীর স্বজনেরা লাশ ফেলে চলে গেছেন। মেয়রের নির্দেশে ওই লাশ দাফন করা হয়েছে। স্বজনদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা কেউ ফোন ধরেননি।

করোনা–পরিস্থিতিতে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে চিহ্নিত করেছে আইইডিসিআর। এই পরিস্থিতিতে গত ৮ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করে আইএসপিআর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারীসহ ৫৫ জনের। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ১১ চিকিৎসক, ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১ হাজার ২৮১ জন। আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়েছেন ১১৪ জন। করোনায় আক্রান্তের হার নারায়ণগঞ্জ সিটি ও সদর উপজেলা এলাকায় বেশি।

  •