একবার জীবাণুনাশক ব্যবহারে ৩ মাস করোনা থেকে নিশ্চিন্ত: গবেষণ

23

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশেষ এক ধরনের জীবাণুনাশকের (অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল কোটিং) সন্ধান দিয়েছেন যুক্তরাষ্টের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। কোনো কিছুর ওপর একবার এ জীবাণুনাশক প্রয়োগ করা হলে ৯০ দিন পর্যন্ত তার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না করোনাভাইরাসের জীবাণু। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এটি হতে পারে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। যদিও গবেষণাটি এখন পর্যন্ত পিয়ার রিভ্যুড নয়।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশেষ ওই জীবাণুনাশকের ব্যবহারে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ৯০ শতাংশ করোনাভাইরাস ধ্বংস হবে। আর দুই ঘণ্টার মধ্যে করোনাভাইরাসের ৯৯ দশমিক ৯৯ ভাগ জীবাণু খুঁজে পাওয়া যাবে না।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী ও গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক অধ্যাপক চার্লস গের্বা বলেছেন, এই আবিষ্কারে নতুন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এক ধাপ অগ্রগতি হলো।

মানুষকে সংক্রমিত করে এমন আরেকধরনের করোনাভাইরাস ২২৯ই-এর ওপর জীবাণুনাশকটির পরীক্ষা চালিয়েছেন গবেষকরা। নতুন করোনাভাইরাসের সঙ্গে ২২৯ই করোনাভাইরাসের গঠন প্রকৃতি ও জিনগত মিল রয়েছে। ২২৯ই করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ সামান্য সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো বস্তুর ওপর বর্ণহীন জীবাণুনাশকটি একবার প্রয়োগের পর তিন থেকে চার মাস তার ধারে কাছে ঘেঁষতে পারেনি করোনাভাইরাসের জীবাণু।

এটি কোনো রকেট সায়েন্স নয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এক দশক ধরে জীবাণুনাশকের এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত রাখতে এর ব্যবহার হয়েছে।

চার্লস বলেন, ‘জনগণের অনেক বেশি চলাচল রয়েছে এমন জায়গায় এ জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। গণপরিবহন বা ট্রেন আপনি একবার সাধারণ উপায়ে জীবাণুনাশক করলেন। কিন্তু পরক্ষণেই সেখানেই আরও লোক উঠবে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন জীবাণুনাশক পদ্ধতি ব্যবহার ভালো ফল দেবে’।

লকডাউনের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যখন খুলে দেওয়া হবে তার আগে শ্রেণিকক্ষে এ জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক চার্লস।

  •