সিলেট নগরীতে একদিকে করোনা অন্যদিকে এডিস মশা

9

এম.এ. রউফ ঃকরোনা আতঙ্কের মধ্যেই সিলেট নগরীর দুটি ওয়ার্ডের ৫ টি স্থানে ডেঙ্গু বিস্তারকারী এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
এমনিতেই করোনার কারণে বিপর্যস্ত জনজীবন ও স্বাস্থ্যসেবা। এ অবস্থায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে সিলেটে দেখা দিয়েছে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক।
সিলেট অঞ্চলে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ৫ এপ্রিল একজন চিকিৎসকের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৩৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি সিলেট অঞ্চলের জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্কের হলেও সচেতনতায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে এই অঞ্চল। এরফলে এই দৃশ্যটি গৃহবন্দি সচেতন মানুষেদের মধ্যে চরম হতাশানক। এরই মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। অবস্থাটিকে বিপদের মাঝে বিপত্তি বলেই মনে করছেন নগরবাসী।
সিলেট নগরীতে ময়লা-আবর্জনা সঠিকভাবে অপসারণ করা হয় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকলে নগরীতে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যেত না ।
গত জানুয়ারিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে যোগ দিতে সিলেট সফর করেছিলেন বাংলাদেশের ষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এদিন সমাবর্তনে বক্তব্যকালে সিলেটকে নোংরা বলে উলেখ্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন সিলেটকে একটা সুন্দর শহর মনে করেছিলাম। কিন্তু এসে দেখলাম একটি অপরিচ্ছন্ন শহর। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা, কলার খোসা পড়ে আছে।
পরবর্তীতে ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তখন এর উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু তা ঠিক মতো না করায় রাষ্ট্রপতির চোখে পড়েছে। এতে সিলেটের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।
গতবছর প্রাথমিক পর্যায়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৬ থেকে ৭টি ওয়ার্ডে এডিস মশার অস্তিত্ব পেয়েছিলাম। সেই ওয়ার্ডগুলো থেকে এবারও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ এবং ২৬ নং ওয়ার্ডের এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত অন্য ওয়ার্ডগুলোতে এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এমনটি দাবি করছেন সিটি করপোরেশন।
এমনকি গত বছর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের বিপরীতে থাকা নার্সারিতে যে এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল, এবার সে জায়গায় এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ২২, ৮, ১০ নম্বর ওয়ার্ডেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই ওয়ার্ডগুলোতেও এবার এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সিসিক সূত্র জানায়, এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। কারণ ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কর্মসূচির বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ৫টি করে ওয়ার্ডকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে জুলাই পর্যন্ত একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেহেতু ২৫ এবং ২৬ নং ওয়ার্ডের এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে তাই সিসিকের প¬্যানে ২৫ এবং ২৬ নং ওয়ার্ডকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিসিক প্রস্তুত রয়েছে। এ ব্যাপারে জুলাই পর্যন্ত একটি প¬্যান করা হয়েছে। এই প-্যান অনুযায়ী কাজও চলমান থাকবে। এছাড়া এবার একটি স্বস্তির বিষয় হল গতবার যেভাবে ঢাকা থেকে রোগীরা এসে স্থানীয়দের আক্রান্ত করেছিলেন সেই শঙ্কাটা এখন পর্যন্ত নেই। কারণ সারাদেশে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১০দিন থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের করণীয় নিয়ে নগরীতে মাইকিং করানো হচ্ছে। মশক নিধন করার আগে ওয়ার্ডের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হচ্ছে। এবার সিলেট সিটি করপোরেশনের ম্যাপ ফলো করে একটি সাইড থেকে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে ১, ৪, ৫, ৬ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কর্মসূচির বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। ১৩ মে থেকে ৭, ৮, ৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ শুরু করা হয়েছে।

সিলেট নগরীতে কমেছে চুরি-ডাকাতি, বেড়েছে ধর্ষণ
স্টাফ রিপোর্টার
চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৬টি। ধর্ষণের ঘটনা বাড়লে ও নগরীতে কমেছে চুরি-ডাকাতি।
সিলেট মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে উন্নতি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় অপরাধ কমেছে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ। আবার কোনো কোনো থানায় তা নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। এর মধ্যে জেলা পুলিশের আওতাধীন ১৩টি থানায় ৫০টি এবং মহানগর পুলিশের আওতাধীন ৬টি থানায় ২৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরিচিতজনরা যেমন পশুর রূপ দেখাচ্ছেন, তেমনই অপরিচিতদের হাতেও সম্ভ্রমহানির ঘটনা ঘটছে অহরহ।
সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ এমন তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে সিলেট মহানগরীতে অপরাধ কমেছে। মার্চ মাসে মহানগরীর ছয়টি থানায় মোট ৮৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার সংখ্যা ছিল দ্বিগুণের চেয়ে বেশি।
গত মার্চ মাসে খুন ৪টি, নারী নির্যাতন ১২টি, শিশু নির্যাতন ১০টি, দ্রুত বিচার ৪টি, ধর্ষণ ৪টি, চুরি ৭টি, মাদক ৪৩টি সহ মোট ৮৪টি মামলা হয়েছে।
এপ্রিল মাসে মোট মামলা হয়েছে ৩১টি। এরমধ্যে খুন ১টি, নারী নির্যাতন ৩টি, শিশু নির্যাতন ৭টি, দ্রুত বিচার ২টি, ধর্ষণ ১টি, চুরি ৬টি, মাদক ১০টি। এই দুই মাসে অপহরণ, ডাকাতি ও ছিনতাইর ঘটনা ঘটেনি। পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মহানগরীতে গত মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে ৫৩টি মামলা হ্রাস পেয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে ৪ জন নারী ও ৬ শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। এর মধ্যে ধর্ষিতার তালিকায় রয়েছে ৭ শিশু। এ বছর এখনও পর্যন্ত সিলেট জেলায় সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মার্চ মাসে। এ মাসে ৯ জন নারী আর ১০ শিশু লাম্পট্যের কবলে পড়েন।
মহানগরীর ছয় থানায় কমেছে চুরি ডাকাতি, কমেছে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা
থানাগুলোতে জনসাধারণের ভিড় আগের তুলনায় নেই। এখন পুলিশ সদস্যরা ব্যস্ত করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজে। পুলিশ বলছে, ছিনতাই, পকেটমার, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি খুনসহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা কমে গেছে।
মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগরীতে শুধু অপরাধ কমেছে তা নয়, থানায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘এ বছরে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট জেলায় ৫০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নারী ২৩ জন ছাড়াও রয়েছে ২৭ শিশু। পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতার কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমে আসছে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এসএমপির ৬টি থানা এলাকায় ২৬টি ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি ধর্ষণের ঘটনাই জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটেছে। এরপর এ ধরনের ঘটনা কমে আসে। মার্চে ৪টি ও এপ্রিলে ১টি ধর্ষণের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে পুলিশের খাতায়।
সর্বশেষ ২মে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রূপা (ছদ্মনাম)। বাড়ি জৈন্তাপুরের মোকামটিলায়। রূপার একই গ্রামের বাসিন্দা কয়েছ আহমদ ও সুমি বেগম। রূপার দূরসম্পর্কের খালা সুমি। একই গ্রামের বাসিন্দা, আবার সম্পর্কে খালা-রূপা তাই সরল বিশ্বাসে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন ইফতারে।
ঘটনাটি গত ২ মে’র। ইফতার করতে যাওয়া রূপার সাথে ঘটে ভয়ানক অমানবিকতা। ইফতার শেষে চায়ের সাথে চেতনাশক মিশিয়ে পান কৌশলে পান করানো হয় রূপাকে। সুমির সহযোগিতায় অচেতন রূপাকে ধর্ষণ করেন কয়েছ। রূপার অভিযোগের ভিত্তিতে পরে সুমি ও কয়েছকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, ‘যতোগুলো ঘটনা ঘটে, পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মামলা হয়েছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জেদান আল মুছা বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ সংক্রমণ রোধে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাট ও শপিংমল তথা বাজারে লোক সমাগম কমে যাওয়ায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে। এখন করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পুলিশ জনসচেতনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি এবং অলিগলিতেও যাচ্ছে। এ কারণেও অপরাধীরা আতঙ্কে আছে।
র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি ওবান বলেন, করোনার ভয়ে অপরাধীরাও ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এজন্য আগের তুলনায় বর্তমানে অপরাধ অনেকটা কমে গেছে। এরপরও র‌্যাব নগরীর পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

গোলাপগঞ্জে অটোরিকশায় দ্বিগুণ ভাড়া, গ্রাহকদের ‘পকেট কাটছে’ পল্লি বিদ্যুৎ
স্টাফ রিপোর্টার
করোনায় বন্ধ রয়েছ গণপরিবহন, নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে অটোরিকশা নিচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। এদিকে, করোনাকালে গ্রাহকদের ‘গলা কাটছে’ পল্লি বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক বিলের ঘাটতি আবাসিক গ্রাহকের ওপর।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষ পার করছে দুর্বিষহ সময়। কঠিন এই সময়ে সিলেটে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘাঁ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি। করোনাকালে গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ বিল। অটোরিকশা নিচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। পল্লি বিদ্যুৎও করোনাকালে গ্রাহকদের ‘পকেট কাটছে’।
গত শনিবার সকালে উপজেলার গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে দাঁড়িয়ে এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়। গোলাপগঞ্জ থেকে ঢাকাদক্ষিণ ১৫ টাকা ভাড়ার জায়গায় ২৫/৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ভাদেশ্বর ৩৫ টাকা ভাড়া হলেও বর্তমানে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নিচ্ছেন অটোরিকশা চালকরা। আমনিয়া ১০ টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করা থাকলেও সেখানে রাখা হচ্ছে ২০ টাকা,
গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে কথা হয় যাত্রী ফয়সল আহমদের সাথে। তিনি বলেন, ঢাকাদক্ষিণ থেকে গোলাপগঞ্জ একটু দরকারে এসেছি। ভাড়া দেওয়ার সময় ড্রাইভার বলেন ২৫ টাকা। এ নিয়ে ড্রাইভারের সাথে কিছুটা কথাকাটাকাটি হয়।
হেতিমগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জ আসা আরেক যাত্রী আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, অটোরিকশা চালকেরা নিয়মের চেয়ে বেশি ভাড়া রাখছেন। তাদের সাথে কথা বলে পারা যায় না। রাস্তায় গাড়ি কম, এই সুযোগ তারা কাজে লাগিয়ে আমাদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।
অটোরিকশা চালক এমরান আহমদ বলেন, আমরা কিছুটা ভাড়া বেশি যাত্রীদের কাছ থেকে চেয়ে নিচ্ছি। তবে যাত্রীরা যে এত টাকা নিই অভিযোগ করলেন, সেটা মিথ্যা।
আরেক অটোরিকশা চালক জামিল আহমদ বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে আমরা গন্তব্যস্থলে এই লকডাউনে মধ্যেও পৌঁছে দিই। এতে কিছু ভাড়া হয়তো বেশি চাই।
ভাড়া বেশি চাইবেন কেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারাদিন রাস্তায় যাত্রী কম থাকেন। আয়ও কিছুটা কম হয়। তাই যাত্রীদের কাছ থেকে একটু বেশি ভাড়া রাখি আমরা। রাস্তায় পুলিশ মামলা দেয়। মামলার টাকা তো দিতে হবে। তাই ভাড়া বেশি নেই।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ অটোরিকশা, অটোটেম্পো, শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পুতুল মিয়া জানান, যে দিন থেকে সরকারিভাবে পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিন থেকে আমরা সবাইকে বলেছি গাড়ি বন্ধ রাখার জন্য। তারপরও কিছু ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন। ভাড়া বেশি নেওয়ার কয়েকটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি।
তিনি বলেন, যারা ভাড়া বেশি নিচ্ছে তাদেরকে আমরা বলেছি ভাড়া নিয়ম মাফিক নেওয়ার জন্য। যাত্রীদেরকে হয়রানি না করার জন্য।
এদিকে, করোনার সময় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের বিল বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করছেন সিলেট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এস এম হাসনাত হাসান।
পল্লি বিদ্যুতের এমন কান্ডে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সিলেটের প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহক। করোনার এই কঠিন সময়েও পল্লি বিদ্যুতের এমন অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ তারা। গোলাপগঞ্জের উত্তর রণকেলি গ্রামের সুমাত নূরী চৌধুরীর বাড়িতে গত এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ বিল পাঠানো হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৫ টাকা। ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫২৫ ইউনিট। বিদ্যুৎ বিলের ওপরে সিল মেরে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘আপনার অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আপনার গত বছরের একই সময়/একই মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে গড় বিল প্রণয়ন করা হলো। কোনো অসঙ্গতি থাকলে পরবর্তীতে তা সংশোধন/সমন্বয় করা হবে। ’ বিলের ওপর গত বছরের একই সময়ের/মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে গড় বিলের কথা হলেও সুমাত নূরী চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ বিল। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তার ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ২৯৫ ইউনিট ও বিল ছিল ১ হাজার ৭৪১ টাকা। একইভাবে বিলের ওপর গত বছরের একই সময়ের (এপ্রিল মাসের) সমপরিমাণ বিলের কথা বলা হলেও গ্রাহকদের কাছে প্রায় দ্বিগুণ বিল পাঠাচ্ছে পল¬ী বিদ্যুৎ।
এভাবে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল আদায় করছে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
বাড়তি বিলের ব্যাপারে সিলেট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক এস এম হাসনাত হাসান দেখাচ্ছেন অদ্ভুত যুক্তি। তার মতে, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মিল-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এরপরও তাদের বিদ্যুতের চাহিদা কমেনি। তাই তাদের ধারণা, বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন আবাসিক গ্রাহকরাই। এ কারণে তাদের ওপর বাড়তি বিল চাপানো হচ্ছে।
গত বছরের একই সময়/মাসের গড় বিলের নোটিস দিয়ে বাড়তি বিল নেওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত হচ্ছে, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্যমতে, কারও কাছ থেকে বাড়তি বিল নেওয়া হলে পরবর্তীতে তা সমন্বয় করা হবে। কিন্তু করোনার এই কঠিন সময়ে মানুষের কাছ থেকে বাড়তি বিল নিয়ে পরবর্তীতে সমন্বয় করা কতটুকু মানবিক এমন প্রশ্নেরও জবাব মেলেনি মহাব্যবস্থাপক হাসনাত হাসানের কাছে।
সিলেট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বোর্ড সভাপতি আবদুল আহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মহাব্যবস্থাপকের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আবাসিক গ্রাহকের বিল বাড়বে এমনটা মানতে নারাজ তিনি। আবদুল আহাদ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ কর্মীরা মিটার রিডিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। লকডাউন থাকায় এলাকায় পল্লি বিদ্যুৎ কর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিল দেওয়ার কথা।
পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ জানান, কোনো গ্রাহক তার বিলের অসঙ্গতি নিয়ে এলে তা ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিস্ময়ের যত ইতিহাস
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহবন্দি জীবনের ৭৭টি দিবস অতিবাহিত হয়েছে। ৯০ হাজার অতিক্রম করেছে মৃত্যু বরনের সংখ্যা, এটি ইতিহাস, একটি রাষ্ট্রে এত মৃত্যু! এটি বিস্ময়ের শুরু কিংবা শেষ নয়, ১৫ লাখ অতিক্রম করেছে শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা। বিস্ময়কর হলো, গত ১৬ এপ্রিল থেকে ১৬মে শনিবার একমাসেই শনাক্ত হয়েছেন ৮লাখ ৩০ হাজারের উপরে। মৃত্যু বেড়েছে ৫৫ হাজার ৫৩৩জনের। এর বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ২লাখ ৮০ হাজার রোগী।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে পরতে পরতে অনেক বিস্ময়। এই তালিকায় দেশের অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কে এখন শনাক্ত ৩লাখ ৫৮ হাজারের ওপরে। পৃথিবীর কোন দেশে এত শনাক্ত নেই যা একটি অঙ্গরাজ্যে হয়েছে। ১৬ এপ্রিল থেকে ১৬ মে এক মাসে এখানে শনাক্ত হয়েছেন একলাখ ৩২হাজার প্রায়। করোনা এক সময় বিদায় নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে যাবে বিস্ময়ের নানা ইতিহাস। মোট মৃত্যু এবং সুস্থতা বাদ দিলে আজও চিকিৎসাধীন অথবা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ১০ লাখ ৭৮ হাজার আমেরিকান। ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল গত ১৬এপ্রিল পর্যন্ত একমাস পরে ১৬ মে সেটি দাড়িয়েছে ৯০ হাজার ১১৩ জনে। নিউইয়র্কে মৃত্যু এখন ২৮ হাজার ১৩৪ জনের। অথচ একমাস আগে ফিরে থাকালে দেখা যায় ১৬ এপ্রিল মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। ১৬ হাজার ১৬জন।
করোনার ইতিহাসে মৃত্যু, শনাক্ত হওয়া যেমন উল্লেখ করার মতো স্মরণ করার বিষয়, তেমনি এখানে টেস্টিংয়ের সংখ্যা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে বিশ্বময়। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে এককোটি ১৯লাখ মানুষের। শুধু নিউইয়র্কে টেস্ট করা হয়েছে ১৪ লাখের ওপর মানুষের।
এত হতাশাজনক বিস্ময় যেমন রয়েছে, তেমনি আছে আশাব্যাঞ্জক বিস্ময়ের গল্প। করোনাকালে বিস্ময় এবং আশা-হতাশার সব গল্প মানুষের জীবন-মরণের গল্প। এই গল্পে রয়েছে মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে আসার বিস্ময়কর তথ্য। গত ১৬ এপ্রিল মাত্র ৫৭ হাজার মানুষ সুস্থ হওয়ার খবর ছিল যুক্তরাষ্ট্রে সেটি এক মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩লাখ ৩৯ হাজারে। এক মাস পেছনে ফিরে থাকালে এটি যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে আশাবাদী করে তুলার মতো পরিসংখ্যান একমাসে সুস্থ হয়েছেন ২লাখ ৮০ হাজার মানুষ। এদিকে নিউইয়র্কে একমাস আগে ছিল ১৭ হাজার মানুষের সুস্থ হওয়ার এখন যা উন্নীত হয়েছে ৬০ হাজারের উপরে। সুস্থ হওয়ার সংখ্যা পুরো যুক্তরাষ্ট্র এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে উন্নতির ধারায় রয়েছে।
এদিকে শনাক্ত বিবেচনায় পৃথিবীর শীর্ষ ৮টি দেশের পর চলে এসেছে নিউজার্সিতে শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা এখানে একলাখ ৪৬ হাজার শনাক্ত যা পৃথিবীর অন্তত ২শটি দেশের উপরে। এখন চীনের, ওপরে, অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটটে শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা যেটি ৮৫ হাজার প্রায়, যা কানাডার উপরে সৌদি আরব, বেলজিয়ামের উপরে অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া ও প্যানসেলভেনিয়া,দেশ হিসেবে সৌদির অবস্থান ১৬তম স্থানে। যুক্তরাষ্ট্রে এউ দুই রাজ্যে শনাক্ত ৬৫ হাজারের উপরে। বিস্ময়কর তথ্যের কোনো শেষ নেই। শনাক্ত বিবেচনায় পাকিস্তান, চিলি, নেদারল্যান্ড এবং মেক্সিকোর ওপরে অঙ্গরাজ্য মিশিগান, এখানে শনাক্ত ৫০ হাজারের ওপরে, এদিকে দেশ হিসেবে মেক্সিকো ১৭তম স্থানে।
একমাস আগে নিউজার্সিতে শনাক্ত ছিল ৭৫ হাজারের ওপরে, মাস পরে সেটি একলাখ ৪৬ হাজারে পৌঁছে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। একমাস আগে ফিরে থাকালে দেখা যায় অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু ছিল ৩৫১৮জন এখন ১০ হাজার ২৫০জন। একটি অঙ্গরাজ্য নয় অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে ৭৭দিন ধওে বিস্ময়করভাবে শনাক্ত এবং মৃত্যুর মিছিল চলছে।
নিউজার্সিসহ আরো ৫টি রাজ্যে অবনতি অব্যাহত রয়েছে। এই তালিকায় ম্যাসাচুসেট, ইলিনইস, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসেলভেনিয়া ও মিশিগান, মেরিল্যান্ড রয়েছে। নিউজার্সিতে একদিনে মোট মৃত্যু ১০,২৬০ জন, ইলিনইসে মোট ৪১২৯জন, ম্যাসাচুসেটে মোট ৫৭০৫জন, ক্যালিফোর্নিয়ায় মোট মৃত্যু ৩২০৮জন, পেনসেলভেনিয়ায় মোট মৃত্যু ৪৪৮৯জন, এছাড়া মিশিগান, মোট মৃত্যু ৪৮৮০জন, ম্যারিল্যান্ডে মোট মৃত্যু ১৯৫৭জন, এসব রাজ্যে মৃত্যু এবং শনাক্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। শনাক্ত এবং মৃত্যু হার দু মাস ধরে ওঠানামা করছে।
আবেগ কিংবা রাজনীতি নয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নররা বার বার বলছেন স্ব স্ব এলাকা এবং রাজ্য লকডাউন তুলে দেয়ার জন্য। সব চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে টেস্ট, ট্রেসিং,এবং স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা, আশঙ্কা, প্রস্তুতি, সামগ্রিক পরিবেশসহ ৭টি বিবেচনাযোগ্য বিষয়।
এদিকে শিশুদের আক্রান্ত হওয়া নতুন উদ্বেগের কারণ নিউইয়র্কের জন্য বিশেষ করে নবজাতক থেকে ৪ বছরের শিশরা একণ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে । বহুমাত্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে জুনের প্রথম সপ্তাহের আগে নিউইয়র্ক লকডাউনমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

জকিগঞ্জের ইউএনও ফোন করলেন সাড়ে ৮
হাজার মানুষকে
সিলেট সংবাদদাতা
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াইহাজার টাকা করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু দেশের অনেক জায়গায় এই তালিকা তৈরিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায়
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করেছেন তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে। উপজেলার ৮ হাজার ৫শ’ মানুষকে সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে ফোনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছেন।
হবিগঞ্জের একটি ইউনিয়নে তালিকা তৈরিতে এক ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার ২শ’ বার ব্যবহার করায় দেশের সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। ঠিক এই সময়ে উপজেলার তালিকা করা ৮ হাজার ৫শ’ মানুষকে ১০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে তালিকায় থাকা সবাইকে ফোন করে সঠিক তথ্য যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমেএ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জকিগঞ্জের তালিকায় একেক জনের নামের পাশে একটি মোবাইল নাম্বার ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সকল ইউনিয়ন থেকে আসা তালিকায় প্রত্যেকটি মোবাইল নাম্বারে তিনিসহ উপজেলার আরো ১০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে ফোন করে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন বলে জানান তিনি। যাদের মোবাইল নাম্বারে সংযোগ সম্ভব দেয়া হয়নি তাদের বাড়িতে শিক্ষক প্রতিনিধি পাঠিয়ে তথ্য যাচাই করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন থেকে তৈরি করা তালিকা সেন্টার এইড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ( সিএএমসি) আপলোড করা হয়। এই তালিকা প্রথমে ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভালো করে দেখে নেয়। কারণ প্রতিটি মোবাইল নাম্বার সম্পর্কে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞদের দিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে দেখা হয়, তালিকায় নাম আসাদের কেউ অন্য কোনো উপকারভোগীদের তালিকায় আছেন কি-না। যদি অন্য তালিকায় নাম থেকে থাকে তাহলে তাকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।
ঈদের পূর্বেই দেশের ৫০ লাখ মানুষ পাবেন এই সুবিধা।

  •