কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণাধীন গেটের ছাদ ধ্বসে আহত ২

16

কানাইঘাট প্রতিনিধি

কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চলমান নির্মাণাধীন প্রবেশদ্বারের ছাদ ঢালাইয়ের একাংশ আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দিকে ধ্বসে পড়ে দুই নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়েছেন। অতি নিন্মমানের কাজ করার কারণে চলমান ছাদ ঢালাইয়ের কাজ ধ্বসে পড়ায় স্থানীয় লোকজন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তারা হাসপাতালের প্রবেশদ্বার পাকা গেইটের কাজের নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিক্ষোভ করেন।

পরে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, হাসপাতালের টিএইচও ডা. শেখ শরফুদ্দিন নাহিদ ও থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার জাহিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাদ ধ্বসে পড়ায় এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পরে হাসপাতালের টিএইচওর কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, টিএইচও শেখ শরফুদ্দিন নাহিদ, থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার জাহিদ, যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ছাদ ধ্বসে পড়ার বিষয়টি অতি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলে সবাইকে আশ^স্থ করেন।

এ সময় বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল হারিছ, কানাইঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল হেকিম শামীম, আওয়ামী লীগ নেতা বদরে আলম চৌধুরী বাবু, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা আসাদ আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম. আখতার হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পর্তুগাল প্রবাসী কাওছার আহমদ, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান আহমদ রোমান, সহ সভাপতি এম. আফতাব উদ্দিন, উপ-প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতার হোসেন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাওছার আহমদ বলেন, হাসপাতালের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহমদসহ প্রবেশদ্বারের গেইট নির্মাণ কাজে জড়িত সাব-কন্ট্রাক্টর ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাব রক্ষক শামীম আহমদের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতির কারণে গেইটের কাজ অতি নিন্মমানের হওয়ায় ছাদের কাজ চলমান অবস্থায় ধ্বসে পড়ায় এলাকার লোকজন ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিক্ষোভ করেন। ছাদ ধ্বসে পড়ার ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্বাক্ষর সম্বলিত একখানা লিখিত অভিযোগ নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহমদ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে হাসপাতালের ৫১ শয্যা বিশিষ্ট কয়েকটি ভবনের কাজ সম্পন্ন করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজ উদ্যোগে হাসপাতালের পাকা গেইটের একাংশের ছাদ ঢালাইয়ের কাজের সময় সাটারিং কাঠ ভেঙ্গে গেলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

  •