শাবিতে শুরু করেনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা

13

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষণাগারে স্থাপিত ল্যাবে ৯১টি নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগের প্রধান শামসুল হক প্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আজ প্রথমবারের মতো ৯১টি নমুনা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু করেছি। ল্যাবে স্থাপনকৃত পিসিআর মেশিনে সিঙ্গেল সাইকেলে প্রতিদিন ৯৪টি নমুনা শনাক্ত করা যাবে, যাতে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে। একইভাবে ডাবল সাইকেলে করলে প্রায় ১৮৮টি নমুনা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগে স্থাপিত ল্যাবে কাজ করতে সহযোগিতা করছেন বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষকরাও (বিএমবি)।

গত ১৮ মে সোমবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ল্যাবের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মঈনুল হক, সিলেট জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের প্রধানগণ।

গত ৯ এপ্রিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়কে করোনা শনাক্ত করার জন্য পিসিআর ল্যাব চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় যেতে সর্বপ্রথম সেফটি ও সিকিউরিটি লেভেল নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে মোট ২৩ জনের একটি টিম এখানে কাজ করছে।’

দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর গত ৭ এপ্রিল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। সিলেট বিভাগের মধ্যে এই ল্যাবে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হচ্ছে শুরু থেকে। এখন পর্যন্ত ওসমানীর ল্যাবে একদিনে সর্বোচ্চ ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে প্রতিদিন যে নমুনা পাঠানো হয় ওসমানী মেডিকেলের ল্যাবে, তা প্রতিদিন পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। শাবিপ্রবিতে নতুন করে ল্যাব চালু হওয়ায় এ সঙ্কট অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট ওসমানী মেডিকেলের প্রিন্সিপাল ও শাবিপ্রবির মেডিকেল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মঈনুল হক বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিসিআর ল্যাব চালু হওয়ায় করোনা শনাক্তকরণের সংকট অনেকখানি কেটে যাবে। এখন থেকে সিলেটে আরও বেশি পরীক্ষা হবে, যার ফলে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আশা করি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম করোনাকলীন এই দুঃসময়ে তাদের মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করবেন।’

  •