দ. সুনামগঞ্জে হাট-বাজারে জনস্রোত, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

8

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

মরণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এই ভয়ঙ্কর রোগ থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজন সামাজিক দূরত্ব ও সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা।

কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জনসাধারণ ছুটছেন তার উল্টোপথে। এই বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে ভিড় জমাচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারে। আর ১০ মে থেকে সীমিত আকারে দোকান কোঠা খুলে দেওয়ার ঘোষণা শোনে আরো লাগামছাড়া হয়ে ওঠেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মানুষ। লকডাউন না উঠলে ও ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার হাট-বাজারে, রাস্তায় এখন জনতার স্রোত। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশনা দেওয়া হলে ও তা মানতে নারাজ তারা। ফলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম বীরগাঁওর টাইলা গ্রামে সর্বপ্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হন গত ২৩ এপ্রিল। আক্রান্ত ২০ বছরের এই কিশোরী স্থানীয়ভাবেই সংক্রমিত হন। পরবর্তীতে তার সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হন ওই কিশোরীর বাবা ও ভাই। এরপর গত ২৪ এপ্রিল উপজেলার পূর্ব পাগলার চিকারকান্দি গ্রামে আরেকজন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হন। এমনকি তার সংস্পর্শে আক্রান্ত হন তার আপন ছোট ভাই ও বোন। একই দিনে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এক সহকারীর এবং আরো এক যুবকের। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সর্বশেষ করোনা আক্রান্ত একই পরিবারের ৩ জন রোগী পাওয়া যায় ১৬ মে। তারা প্রত্যেকেই ১৩ মে সনাক্ত হওয়া বাবার সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হন। এভাবেই চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। তবে এর মধ্যে ২ জন সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এভাবে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারণের মাঝে আতংক বিরাজ করলে ও নেই সচেতনতা। ফলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে করোনা ঝুঁকির মাত্রা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটা করতে মানুষের ঢল নেমেছে হাট-বাজারে। দোকানগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই মানছেন না সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। কেউই ব্যবহার করছেন না মাস্ক কিংবা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী। এতে করোনার হার মারাত্মকভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন উপজেলার সুশীল শ্রেণীর নাগরিকরা।

এদিকে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রশাসন পারছে না কঠোর হতে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছেন অসচেতন নাগরিকরা।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, ‘জনগণকে শুরু থেকেই করোনা বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। অসচেতন মানুষদের ঘরে থাকতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে দোকানপাট খোলার নির্দেশনা পাওয়ার পর মানুষদের আর কোনো ভাবেই আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে থানা পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ঈদের পরে কঠোরভাবে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

  •